ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রবাস: ড্রোন হামলায় নিহত সন্দ্বীপবাসীর লাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত কুয়েতে এক মর্মান্তিক ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো সন্দ্বীপের প্রবাসী মো. জাহেদের নিথর দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তার শোকার্ত পরিবার। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে। আইনি জটিলতা এবং আকাশপথে চলাচলের অনিশ্চয়তা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার শেষযাত্রা বিলম্বিত করছে, যার ফলে তার মরদেহ বিদেশের মাটিতেই আটকে আছে।

প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কফিনটি প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে সরাসরি তার নিজভূমি সন্দ্বীপে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও বীমার অর্থ প্রদান করা হবে।

নিহত জাহেদের বড় ভাই বাবলু কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে কখন পৌঁছাবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েতে উট চড়ানোর সময় পার্শ্ববর্তী একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হলে জাহেদ মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অভাবের তাড়নায়, বিশেষ করে তার প্রতিবন্ধী শিশু সন্তান জিসানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রবাস জীবনে জাহেদের সবচেয়ে বড় আফসোস ছিল অর্থাভাবে তার ছেলের আকিকা দিতে না পারা। স্বজনরা জানান, জাহেদের স্বপ্ন ছিল এবারের ঈদের পর বাড়ি ফিরে তিনি ছেলের আকিকা দেবেন। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা তার সেই স্বপ্নকে চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে। পরিবারটির এখন একটাই আকুতি – যেন দ্রুত সব আইনি জটিলতা শেষ করে জাহেদের নিথর দেহটি তাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা ৪ বাংলাদেশি বর্ণনা দিলেন সেই মিসাইল হামলার

যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রবাস: ড্রোন হামলায় নিহত সন্দ্বীপবাসীর লাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৮:৫১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত কুয়েতে এক মর্মান্তিক ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো সন্দ্বীপের প্রবাসী মো. জাহেদের নিথর দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তার শোকার্ত পরিবার। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে। আইনি জটিলতা এবং আকাশপথে চলাচলের অনিশ্চয়তা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার শেষযাত্রা বিলম্বিত করছে, যার ফলে তার মরদেহ বিদেশের মাটিতেই আটকে আছে।

প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কফিনটি প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে সরাসরি তার নিজভূমি সন্দ্বীপে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও বীমার অর্থ প্রদান করা হবে।

নিহত জাহেদের বড় ভাই বাবলু কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে কখন পৌঁছাবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েতে উট চড়ানোর সময় পার্শ্ববর্তী একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হলে জাহেদ মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অভাবের তাড়নায়, বিশেষ করে তার প্রতিবন্ধী শিশু সন্তান জিসানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রবাস জীবনে জাহেদের সবচেয়ে বড় আফসোস ছিল অর্থাভাবে তার ছেলের আকিকা দিতে না পারা। স্বজনরা জানান, জাহেদের স্বপ্ন ছিল এবারের ঈদের পর বাড়ি ফিরে তিনি ছেলের আকিকা দেবেন। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা তার সেই স্বপ্নকে চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে। পরিবারটির এখন একটাই আকুতি – যেন দ্রুত সব আইনি জটিলতা শেষ করে জাহেদের নিথর দেহটি তাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।