ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত লোহার বেঞ্চ, জানালা ও অন্যান্য মালামাল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় মালামাল বহনকারী একটি ট্রাক আটকে দেওয়া হলে পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা এসব মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিদ্যালয়ের চারটি পরিত্যক্ত ভবনের টিন, ইট, দরজা, জানালা ও লোহার অ্যাঙ্গেল উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই টেন্ডারের বাইরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার অতিরিক্ত লোহার বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল ও একটি বড় লোহার জানালাসহ অন্যান্য মালামাল কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব মালামাল একটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে গোহাইলবাড়ী বাজার এলাকায় ট্রাকটি আটকে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামাল উদ্ধার করেন এবং বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, টেন্ডারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে শুধুমাত্র পরিত্যক্ত চারটি ভবনের মালামাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘পরে দেখি একটি ট্রাকে বিদ্যালয়ের লোহার বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল ও বড় লোহার জানালাসহ অতিরিক্ত মালামাল তোলা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাকটি আটকে দেওয়া হয়।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। তবে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ১৩ হাজার টাকার লোহাজাতীয় মালামাল বিক্রির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী অভিযোগ অস্বীকার করেননি।
রিপোর্টারের নাম 























