মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস ও আত্মত্যাগ তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর (২০২৫ সালের) ৫ আগস্ট বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপাচার্য তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও খোঁজখবর নেন।

পরে সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুঃশাসন ও বৈষম্যের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এই ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ, ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, আলোকচিত্র ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং জুলাই যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি গণতন্ত্র, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ধারাবাহিকতার ফলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি ‘আর কখনো বৈষম্য-দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি নয়’ স্লোগানটি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে বাধা: সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল কারাগারে, রিমান্ড কাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস ও আত্মত্যাগ তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর (২০২৫ সালের) ৫ আগস্ট বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপাচার্য তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও খোঁজখবর নেন।

পরে সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুঃশাসন ও বৈষম্যের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এই ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ, ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, আলোকচিত্র ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং জুলাই যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি গণতন্ত্র, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ধারাবাহিকতার ফলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি ‘আর কখনো বৈষম্য-দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি নয়’ স্লোগানটি পুনর্ব্যক্ত করেন।