ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে : হাসনাত আবদুল্লাহ

## তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা: হাসনাত আবদুল্লাহ

দেবিদ্বার, [আজকের তারিখ]: জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান। এই সংকট নিরসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আমাদের কাজের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্য কমিটির সভা এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি আমার প্রথম স্বাস্থ্য কমিটির সভা। ২০০৯ সালের পর আজ এই প্রথম আমরা একত্রিত হয়েছি। এই সভায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের অভাব, যেমন ইসিজি মেশিন ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই মেশিনগুলোর ব্যবস্থা করতে পারব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালটিতে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থা বিরাজ করছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। যেখানে ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা, সেখানে মাত্র ৯ জন রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন অন্য সেক্টরে সংযুক্ত। ফলে, মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৫ হাজার রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, “কোনো চিকিৎসককে জোর করে বা বাধ্য করে চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিযুক্ত করা সম্ভব নয়। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও পরিবেশ উন্নত করতে হবে। আমরা এক মাস সময় নিয়েছি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন বাথরুমের অভাব এবং দৈনিক ২ শতাধিক রোগী দেখার চাপ, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয় – এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য। মানসিকভাবে স্বচ্ছন্দ না হলে চিকিৎসকরা সর্বোত্তম সেবা দিতে পারবেন না।”

তিনি জানান, দেবিদ্বারে চিকিৎসকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তাদের ওপর চিকিৎসা সেবার চাপ সৃষ্টি করা যৌক্তিক নয়। এছাড়া, পুরো হাসপাতালে মাত্র দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন, যেখানে পাঁচ বা তার অধিক কর্মীর প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালে আসেন না এবং প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন। সরকারি হাসপাতালে আলাদা ফি নিয়ে রোগী দেখার অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করেছি যে তাদের পেশাগত সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, তাদেরও রোগীদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তারা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন। আগামী রবিবার নতুন দুজন চিকিৎসক যোগদান করবেন।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে চারতলা বিশিষ্ট করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ছয় কোটি টাকার একটি বরাদ্দ এসেছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, এটিকে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস ছালাম খান, আরএমও কবির হোসেন, ডা. মঞ্জুর, ডা. শাকিল ও ডা. সাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১১, আশঙ্কাজনক অনেকে

মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে : হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় : ১০:১৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

## তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা: হাসনাত আবদুল্লাহ

দেবিদ্বার, [আজকের তারিখ]: জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান। এই সংকট নিরসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আমাদের কাজের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্য কমিটির সভা এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি আমার প্রথম স্বাস্থ্য কমিটির সভা। ২০০৯ সালের পর আজ এই প্রথম আমরা একত্রিত হয়েছি। এই সভায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের অভাব, যেমন ইসিজি মেশিন ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই মেশিনগুলোর ব্যবস্থা করতে পারব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালটিতে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থা বিরাজ করছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। যেখানে ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা, সেখানে মাত্র ৯ জন রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন অন্য সেক্টরে সংযুক্ত। ফলে, মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৫ হাজার রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, “কোনো চিকিৎসককে জোর করে বা বাধ্য করে চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিযুক্ত করা সম্ভব নয়। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও পরিবেশ উন্নত করতে হবে। আমরা এক মাস সময় নিয়েছি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন বাথরুমের অভাব এবং দৈনিক ২ শতাধিক রোগী দেখার চাপ, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয় – এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য। মানসিকভাবে স্বচ্ছন্দ না হলে চিকিৎসকরা সর্বোত্তম সেবা দিতে পারবেন না।”

তিনি জানান, দেবিদ্বারে চিকিৎসকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তাদের ওপর চিকিৎসা সেবার চাপ সৃষ্টি করা যৌক্তিক নয়। এছাড়া, পুরো হাসপাতালে মাত্র দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন, যেখানে পাঁচ বা তার অধিক কর্মীর প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালে আসেন না এবং প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন। সরকারি হাসপাতালে আলাদা ফি নিয়ে রোগী দেখার অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করেছি যে তাদের পেশাগত সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, তাদেরও রোগীদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তারা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন। আগামী রবিবার নতুন দুজন চিকিৎসক যোগদান করবেন।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে চারতলা বিশিষ্ট করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ছয় কোটি টাকার একটি বরাদ্দ এসেছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, এটিকে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস ছালাম খান, আরএমও কবির হোসেন, ডা. মঞ্জুর, ডা. শাকিল ও ডা. সাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।