ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলি মূল্যায়ন: প্রবল হামলা সত্ত্বেও অটুট ইরান সরকার, কৌশল পাল্টাচ্ছে তেহরান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত ও তীব্র বিমান হামলার মুখেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে নেই বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে তেহরান তার যুদ্ধ কৌশল পরিবর্তন করে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল্লা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধ থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে। সূত্রটির মতে, বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মাঝারি থেকে দুর্বল পর্যায়ে থাকলেও তারা এখনও কার্যকর রয়েছে। ব্যাপক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং যেকোনও শূন্যস্থান পূরণে ইরান প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় ইরান এখন আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ইসরায়েলকে ইরান তাদের প্রধান শত্রু মনে করে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ হামলা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সেটিই তার প্রশাসনের নীতি। পরবর্তীতে তিনি ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সব জায়গায় বোমা পড়বে এবং কাজ শেষ হলে জনগণ যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সুরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এটি একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে এবং তারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে ইরানি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারে।

তবে গত চার দিনে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়। হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ১ হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

অন্যদিকে, তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, ইরান পাল্টা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম হয়েছে। আইএনএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেন’

ইসরায়েলি মূল্যায়ন: প্রবল হামলা সত্ত্বেও অটুট ইরান সরকার, কৌশল পাল্টাচ্ছে তেহরান

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত ও তীব্র বিমান হামলার মুখেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে নেই বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে তেহরান তার যুদ্ধ কৌশল পরিবর্তন করে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল্লা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধ থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে। সূত্রটির মতে, বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মাঝারি থেকে দুর্বল পর্যায়ে থাকলেও তারা এখনও কার্যকর রয়েছে। ব্যাপক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং যেকোনও শূন্যস্থান পূরণে ইরান প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় ইরান এখন আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ইসরায়েলকে ইরান তাদের প্রধান শত্রু মনে করে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ হামলা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সেটিই তার প্রশাসনের নীতি। পরবর্তীতে তিনি ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সব জায়গায় বোমা পড়বে এবং কাজ শেষ হলে জনগণ যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সুরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এটি একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে এবং তারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে ইরানি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারে।

তবে গত চার দিনে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়। হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ১ হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

অন্যদিকে, তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, ইরান পাল্টা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম হয়েছে। আইএনএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।