ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

টিআইবির কড়া হুঁশিয়ারি: বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, দেশের এই শীর্ষ আর্থিক পদে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমন এক ব্যক্তিকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা উচিত যিনি সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যার কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। টিআইবি মনে করে, বর্তমান নিয়োগটি রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন সত্তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ববর্তী গভর্নরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। টিআইবি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর হবে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবি কেবল গভর্নরের পরিবর্তনই নয়, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারের ওপরও জোর দেয়। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে যে ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত, তা নিশ্চিত করতে হলে একটি স্বাধীন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ থাকা আবশ্যক বলে সংস্থাটি মত প্রকাশ করে।

টিআইবি আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের এই সুপারিশ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় সংঘাতে নতুন ট্র্যাজেডি: কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে শিশুর মৃত্যু

টিআইবির কড়া হুঁশিয়ারি: বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, দেশের এই শীর্ষ আর্থিক পদে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমন এক ব্যক্তিকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা উচিত যিনি সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যার কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। টিআইবি মনে করে, বর্তমান নিয়োগটি রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন সত্তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ববর্তী গভর্নরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। টিআইবি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর হবে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবি কেবল গভর্নরের পরিবর্তনই নয়, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারের ওপরও জোর দেয়। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে যে ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত, তা নিশ্চিত করতে হলে একটি স্বাধীন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ থাকা আবশ্যক বলে সংস্থাটি মত প্রকাশ করে।

টিআইবি আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের এই সুপারিশ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন।