ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সরাসরি সুবিধা পাবেন কৃষকরা: পহেলা বৈশাখে ৯ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ চালু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও কৃষকদের সরকারি সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। আগামী পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

গত বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।

প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ – এই নয়টি উপজেলাকে কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব উপজেলায় সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের বৃহৎ পরিসরের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, ‘কৃষক কার্ড’-এর মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের শুভক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচিত নয়টি উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল স্তরের কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলার নয়টি নির্দিষ্ট ব্লকে পর্যায়ক্রমে কার্ডগুলো বিতরণ করা হবে।

এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া, সরকারি আর্থিক অনুদান ও ভর্তুকি সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করবে। ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কর্মসূচিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরীয় সংঘাতে নতুন ট্র্যাজেডি: কুয়েতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে শিশুর মৃত্যু

সরাসরি সুবিধা পাবেন কৃষকরা: পহেলা বৈশাখে ৯ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ চালু

আপডেট সময় : ০৩:৫১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও কৃষকদের সরকারি সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। আগামী পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

গত বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।

প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ – এই নয়টি উপজেলাকে কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব উপজেলায় সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের বৃহৎ পরিসরের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, ‘কৃষক কার্ড’-এর মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এড়িয়ে সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের শুভক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচিত নয়টি উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল স্তরের কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলার নয়টি নির্দিষ্ট ব্লকে পর্যায়ক্রমে কার্ডগুলো বিতরণ করা হবে।

এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া, সরকারি আর্থিক অনুদান ও ভর্তুকি সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করবে। ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কর্মসূচিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।