ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথা হতে পারে ইরানি ড্রোন, সতর্ক পেন্টাগন

ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলোর সব কটি মাঝআকাশে ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন যে শাহেদ ড্রোনগুলো প্রত্যাশার চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই ড্রোনগুলো নিচ দিয়ে এবং ধীরগতিতে উড়তে পারে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও সহজে রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে এবং নতুন হামলাগুলোতে দেশটির নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বন্ধ করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানো। শাসন পরিবর্তনকে তারা একটি আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা গেছে। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের একটি সময়সীমা দিয়েছেন। তবে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি বলেন, কর্মকর্তারা কোনও সুনির্দিষ্ট শেষ তারিখ জানাননি, এটি তার কাছে ‘অনির্দিষ্টকালীন’ মনে হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে অফুরন্ত সরবরাহ নেই। ইরান বিপুল পরিমাণ শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। একপর্যায়ে এটি একটি গাণিতিক সমস্যায় পরিণত হবে যে আমরা আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কোথা থেকে পাব।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস বলেন, আমেরিকান স্বার্থে কোনও আসন্ন হুমকি না থাকা সত্ত্বেও কেন এই যুদ্ধ শুরু করা হলো, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। তবে হাউস স্পিকার মাইক জনসন একে ‘যুদ্ধ’ না বলে একটি ‘বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে বারাক ওবামার লিবিয়া হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়েনি।

চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথা হতে পারে ইরানি ড্রোন, সতর্ক পেন্টাগন

আপডেট সময় : ১১:৪০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলোর সব কটি মাঝআকাশে ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন যে শাহেদ ড্রোনগুলো প্রত্যাশার চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই ড্রোনগুলো নিচ দিয়ে এবং ধীরগতিতে উড়তে পারে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও সহজে রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে এবং নতুন হামলাগুলোতে দেশটির নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বন্ধ করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানো। শাসন পরিবর্তনকে তারা একটি আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত দেখা গেছে। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের একটি সময়সীমা দিয়েছেন। তবে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি বলেন, কর্মকর্তারা কোনও সুনির্দিষ্ট শেষ তারিখ জানাননি, এটি তার কাছে ‘অনির্দিষ্টকালীন’ মনে হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে অফুরন্ত সরবরাহ নেই। ইরান বিপুল পরিমাণ শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। একপর্যায়ে এটি একটি গাণিতিক সমস্যায় পরিণত হবে যে আমরা আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কোথা থেকে পাব।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস বলেন, আমেরিকান স্বার্থে কোনও আসন্ন হুমকি না থাকা সত্ত্বেও কেন এই যুদ্ধ শুরু করা হলো, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। তবে হাউস স্পিকার মাইক জনসন একে ‘যুদ্ধ’ না বলে একটি ‘বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে বারাক ওবামার লিবিয়া হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়েনি।

চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।