ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে শাসন পরিবর্তনে ইসরায়েলের আগ্রাসন: নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু

ইসরায়েল ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে একটি গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশানা করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রও এই আগ্রাসনে শামিল হয়ে তেহরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় আঘাত হানছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের হামলাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য দায়ীদের ওপর পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ সদস্য থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনে আইআরজিসি এবং বাসিজ মিলিশিয়ারা মূল ভূমিকা পালন করেছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তারা আকাশপথে ইরানের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এতটাই দুর্বল করে দিতে চান যাতে সাধারণ মানুষ রাজপথে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর আগে তেহরানকে দুর্বল করতে ইসরায়েল গোপন অভিযান চালালেও, এখন তারা সরাসরি ‘শাসন পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ)-এর দিকে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলায় আইআরজিসি-র থারাল্লাহ সদর দফতর এবং দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট ফারাজা-এর সদর দফতর গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ফারাজা-র গোয়েন্দা প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ানের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। এছাড়া কুর্দি অধ্যুষিত সানান্দাজ শহরে পুলিশ স্টেশন ও কারাগারগুলোতেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতর সরকারকে উৎখাত করতে অস্ত্র হাতে নিতে ইচ্ছুক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। গত রবিবার তিনি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমি আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র ত্যাগ করে পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যু অপেক্ষা করছে।”

এদিকে, এই চলমান সংঘাতে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের অধিকাংশই মেয়ে এবং তারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার শিকার হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে গত দুই মাসের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল আকাশপথের হামলা দিয়ে একটি শক্তিশালী স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটানো সহজ নয়। বাসিজ মিলিশিয়ারা এখনও রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং বেসামরিক মৃত্যু বাড়তে থাকলে সরকারি বাহিনীর জনপ্রিয়তা উল্টো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সূত্রে প্রাপ্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান

ইরানে শাসন পরিবর্তনে ইসরায়েলের আগ্রাসন: নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েল ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে একটি গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশানা করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রও এই আগ্রাসনে শামিল হয়ে তেহরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় আঘাত হানছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের হামলাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য দায়ীদের ওপর পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ সদস্য থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনে আইআরজিসি এবং বাসিজ মিলিশিয়ারা মূল ভূমিকা পালন করেছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তারা আকাশপথে ইরানের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এতটাই দুর্বল করে দিতে চান যাতে সাধারণ মানুষ রাজপথে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর আগে তেহরানকে দুর্বল করতে ইসরায়েল গোপন অভিযান চালালেও, এখন তারা সরাসরি ‘শাসন পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ)-এর দিকে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলায় আইআরজিসি-র থারাল্লাহ সদর দফতর এবং দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট ফারাজা-এর সদর দফতর গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ফারাজা-র গোয়েন্দা প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ানের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। এছাড়া কুর্দি অধ্যুষিত সানান্দাজ শহরে পুলিশ স্টেশন ও কারাগারগুলোতেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতর সরকারকে উৎখাত করতে অস্ত্র হাতে নিতে ইচ্ছুক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। গত রবিবার তিনি কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দলত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমি আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র ত্যাগ করে পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যু অপেক্ষা করছে।”

এদিকে, এই চলমান সংঘাতে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬৫ জন শিশু রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের অধিকাংশই মেয়ে এবং তারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার শিকার হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে গত দুই মাসের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল আকাশপথের হামলা দিয়ে একটি শক্তিশালী স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটানো সহজ নয়। বাসিজ মিলিশিয়ারা এখনও রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং বেসামরিক মৃত্যু বাড়তে থাকলে সরকারি বাহিনীর জনপ্রিয়তা উল্টো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সূত্রে প্রাপ্ত।