ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

রামপুরায় গুলি-হত্যা: হচ্ছে না রায়, নতুন এভিডেন্স জমা দেবে প্রসিকিউশন

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। ফলে আজ বুধবার (৪ মার্চ) নির্ধারিত দিন সত্ত্বেও এ মামলার রায় ঘোষণা করছেন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন আবেদনটি দাখিল করে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। এ মামলায় রায় পিছিয়ে নতুন ডিজিটাল এভিডেন্স নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে চার সপ্তাহ সময় চান।

তবে আসামিপক্ষে আইনজীবী না আসায় চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। দুপুরে এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, কিছু জটিলতার কারণে রায় যেন না দেওয়া হয়, সে জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। রামপুরার এ মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটি হলো, গুলি করার নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও আসামি করা হয়নি। এছাড়া নতুন আরও সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। এ জন্য রায় পিছিয়ে যেন সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চালানো হয়। সে জন্যই আবেদনটি করা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছিল প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

পলাতক অন্য আসামিরা হলেন– খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ মামলায় হাবিবসহ পলাতক চার জনের পক্ষে লড়ছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। এক পর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।

এ মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সহকারী সচিবের ঢাকা সফর: মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

রামপুরায় গুলি-হত্যা: হচ্ছে না রায়, নতুন এভিডেন্স জমা দেবে প্রসিকিউশন

আপডেট সময় : ০১:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। ফলে আজ বুধবার (৪ মার্চ) নির্ধারিত দিন সত্ত্বেও এ মামলার রায় ঘোষণা করছেন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন আবেদনটি দাখিল করে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। এ মামলায় রায় পিছিয়ে নতুন ডিজিটাল এভিডেন্স নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে চার সপ্তাহ সময় চান।

তবে আসামিপক্ষে আইনজীবী না আসায় চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। দুপুরে এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, কিছু জটিলতার কারণে রায় যেন না দেওয়া হয়, সে জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। রামপুরার এ মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটি হলো, গুলি করার নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও আসামি করা হয়নি। এছাড়া নতুন আরও সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। এ জন্য রায় পিছিয়ে যেন সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চালানো হয়। সে জন্যই আবেদনটি করা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছিল প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

পলাতক অন্য আসামিরা হলেন– খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ মামলায় হাবিবসহ পলাতক চার জনের পক্ষে লড়ছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। এক পর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।

এ মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।