ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পার্সেলের মাধ্যমে পাঠিয়ে এই হুমকি প্রদান করা হয়। এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায়, ওই দিন দুপুরে তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাসায় গিয়ে পার্সেল খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একগজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জলের বোতল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট রয়েছে। চিরকুটে লেখা আছে, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ফুটবল দলের রাজকীয় সংবর্ধনা: মাদ্রিদের রাজপথে লাখো মানুষের উল্লাস

ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

আপডেট সময় : ১০:৪২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পার্সেলের মাধ্যমে পাঠিয়ে এই হুমকি প্রদান করা হয়। এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায়, ওই দিন দুপুরে তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাসায় গিয়ে পার্সেল খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একগজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জলের বোতল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট রয়েছে। চিরকুটে লেখা আছে, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।