কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। ফলে জেলা পরিষদের সরকারি ডাকবাংলোর সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চলছে, যা বিচারক, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সীমাহীন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৮৪ সালে স্থাপিত মহেশখালী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯৯ সালের ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনটি একাধিকবার সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজকে চিঠি পাঠান। বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জানানো হলে, মন্ত্রণালয় মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম কক্সবাজার জেলা সদরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়।
তবে, আইনজীবীসহ বিচারপ্রার্থীরা মহেশখালীতেই বিকল্প সরকারি ভবনে আদালতের কার্যক্রম স্থানান্তরের দাবি জানান। এ বিষয়ে আদালতের আইনজীবী আবু তালেব উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করার পর আদালতের কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তরিত হয়নি। এরপর থেকে ২০১৫ সাল থেকে মহেশখালী সরকারি ডাকবাংলোতেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
মহেশখালীর আইনজীবী নুরুল আলম জানিয়েছেন, বিচারকের আবাসিক ব্যবস্থার অভাব এবং আদালত ভবন পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় মহেশখালীতে বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রয়োজনে জেলা সদরের আদালতে শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। যেখানে মহেশখালী আদালতে হাজিরা দিতে একজন বিচারপ্রার্থী বা আসামির মাত্র ২৫০ টাকা খরচ হয়, সেখানে কক্সবাজার সদরে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খাতে খরচ অনেক বেশি পড়ে।
রিপোর্টারের নাম 



















