কুড়িগ্রাম জেলায় দুই দফায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার পর ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদ-নদীগুলোর অববাহিকায় প্রায় ৪০টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ৩০টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। তবে, চরাঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজিবপুর, রৌমারী, চিলমারী, ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, সদর, রাজারহাট এবং ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার বেশিরভাগই নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। গত এক মাসে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনে চিলমারী, রৌমারী, রাজারহাট এবং নাগেশ্বরীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে অন্তত কয়েকশ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আত্মীয়ের বাড়িতে, পাশের চরে বা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে নতুন করে বসতি গড়ার চেষ্টা করছে। তবে, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কোথাও স্থায়ী আশ্রয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, বাজার, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ভাঙনের তীব্রতা সত্ত্বেও, চরের এই এলাকাগুলো রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, নদী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয়রা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 



















