ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরিবেশ দূষণকারীদের নাম প্রকাশ বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, যেকোনো পরিবেশ দূষণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (৪ মার্চ) এই যুগান্তকারী রায় দেন।

২০২২ সালে পরিবেশ অধিদফতর একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এই রিটের মাধ্যমেই অধিদফতরের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাকে সহযোগিতা করেন সঞ্জয় মন্ডল। মনজিল মোরশেদ শুনানিতে বলেন, পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘সম্মান’ রক্ষার্থে তাদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত আইন পরিপন্থী। তিনি যুক্তি দেন যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৪(২) ধারা এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৬(১) ধারায় জনগণের তথ্য জানার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদফতর এই আইন লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের মূল দায়িত্ব হলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেই পদক্ষেপগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা, কিন্তু এক্ষেত্রে তারা উল্টো পথে হেঁটেছেন।

পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি আদালতকে জানান, বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতর দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করছে। তবে, আদালতের চাহিদা অনুযায়ী ওই বিতর্কিত সময়কালে দূষণকারীদের নাম প্রকাশের কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পরিবেশ অধিদফতরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। সেই রুলকে যথাযথ ঘোষণা করে আদালত আজ রায় দিলেন এবং সরকারের দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করলেন। রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলায় পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপাপরিচালকসহ মোট পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছিল। এই রায়ের ফলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে অপরাধ দমনের নির্দেশ, ট্রাফিকে নজর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরিবেশ দূষণকারীদের নাম প্রকাশ বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

আপডেট সময় : ০১:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, যেকোনো পরিবেশ দূষণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (৪ মার্চ) এই যুগান্তকারী রায় দেন।

২০২২ সালে পরিবেশ অধিদফতর একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এই রিটের মাধ্যমেই অধিদফতরের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাকে সহযোগিতা করেন সঞ্জয় মন্ডল। মনজিল মোরশেদ শুনানিতে বলেন, পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘সম্মান’ রক্ষার্থে তাদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত আইন পরিপন্থী। তিনি যুক্তি দেন যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৪(২) ধারা এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৬(১) ধারায় জনগণের তথ্য জানার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদফতর এই আইন লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের মূল দায়িত্ব হলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেই পদক্ষেপগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা, কিন্তু এক্ষেত্রে তারা উল্টো পথে হেঁটেছেন।

পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি আদালতকে জানান, বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতর দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করছে। তবে, আদালতের চাহিদা অনুযায়ী ওই বিতর্কিত সময়কালে দূষণকারীদের নাম প্রকাশের কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পরিবেশ অধিদফতরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। সেই রুলকে যথাযথ ঘোষণা করে আদালত আজ রায় দিলেন এবং সরকারের দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করলেন। রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলায় পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপাপরিচালকসহ মোট পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছিল। এই রায়ের ফলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।