ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কলমাকান্দায় পাহাড়ি ঢলে নতুন সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাপক ফসলের ক্ষতি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নির্মাণাধীন নতুন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে একাধিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের কারণে ফসলি জমিতে বালু জমে আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে এবং শতাধিক মাছের পুকুর ও আমনের বীজতলা ভেসে গেছে।

সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর, খারনই ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া সেক্রেড হার্ড উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র পানির প্রবাহে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে, যা কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়েছে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবিত ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হলেও, এবার ঢলের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের প্রচুর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ঢলের পানিতে বালু থাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধানের চারাও নষ্ট হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ফুটবল দলের রাজকীয় সংবর্ধনা: মাদ্রিদের রাজপথে লাখো মানুষের উল্লাস

কলমাকান্দায় পাহাড়ি ঢলে নতুন সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাপক ফসলের ক্ষতি

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নির্মাণাধীন নতুন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে একাধিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের কারণে ফসলি জমিতে বালু জমে আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে এবং শতাধিক মাছের পুকুর ও আমনের বীজতলা ভেসে গেছে।

সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর, খারনই ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া সেক্রেড হার্ড উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র পানির প্রবাহে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে, যা কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়েছে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবিত ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হলেও, এবার ঢলের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের প্রচুর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ঢলের পানিতে বালু থাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধানের চারাও নষ্ট হয়েছে।