আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সরকারি দলের সূত্রমতে, স্পিকার পদটি সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হবেন। তবে, একটি রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে, বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের একটি উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা এবং বিরোধী দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদেই সরকারি দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আসীন হন। তবে, জুলাই সনদে এই চিরাচরিত ধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধী দলকেও ডেপুটি স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সমঝোতায় উপনীত হয়েছি। আমরা এই সমঝোতার বাস্তবায়ন এখনই শুরু করতে চাই। প্রধান বিরোধী দলকে আমরা মৌখিকভাবে এবং সাক্ষাতে ডেপুটি স্পিকার পদটি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি, স্পিকার নির্বাচনের দিনই একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার পদে তাদের চারজন সংসদ সদস্যের নাম বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এছাড়াও, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে তাদের সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নামও মৌখিকভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
জামায়াতের যে চারজন সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য আলোচনায় আছেন, তারা হলেন: পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসনের ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এবং পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও ডেপুটি স্পিকার পদ দাবি করা হয়েছে। এনসিপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, জোটের পক্ষ থেকে এনসিপিকে ডেপুটি স্পিকার পদটি দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে এই পদটি চূড়ান্ত হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিএনপি আমাদের এই বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি জুলাই সনদের বিষয়টিও রয়েছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি।”
রিপোর্টারের নাম 






















