ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে কঠোর হচ্ছে সরকার: অভিজ্ঞতাকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা আসছে। এবার থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পেতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে এই পদে নিয়োগের জন্য ১৫ বছর এবং ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ বছর করার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে যেন তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সহজে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এই প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি, তবে আজ এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ কলেজের অধ্যক্ষ, ডিগ্রি মাধ্যমিক কলেজের উপাধ্যক্ষ অথবা স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে বা এমপিওভুক্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক ছিল।

একইভাবে, স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিসহ বিএড ডিগ্রি এবং মাধ্যমিক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত পদে ন্যূনতম ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য, ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

তবে, নতুন নির্দেশনায় এই অভিজ্ঞতার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ বছর করার বিষয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এর ফলে, অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই কেবল প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি কর্পোরেশনের ৪৭০ কোটি টাকার বিল বকেয়া: নতুন প্রশাসকদের কঠিন চ্যালেঞ্জ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে কঠোর হচ্ছে সরকার: অভিজ্ঞতাকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৭:০০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা আসছে। এবার থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পেতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে এই পদে নিয়োগের জন্য ১৫ বছর এবং ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ বছর করার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে যেন তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সহজে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এই প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি, তবে আজ এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ কলেজের অধ্যক্ষ, ডিগ্রি মাধ্যমিক কলেজের উপাধ্যক্ষ অথবা স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে বা এমপিওভুক্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক ছিল।

একইভাবে, স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিসহ বিএড ডিগ্রি এবং মাধ্যমিক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত পদে ন্যূনতম ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য, ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

তবে, নতুন নির্দেশনায় এই অভিজ্ঞতার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ বছর করার বিষয়টি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এর ফলে, অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই কেবল প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।