আন্তর্জাতিক জনমতকে তাচ্ছিল্যভরে উপেক্ষা করে সম্প্রতি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিনা উসকানিতে চালানো এই হামলার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইসরাইলি অক্ষ কতটা অপ্রতিরোধ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন তাদের কাছে কতটা মূল্যহীন। এই ঘটনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বরাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এখন যেকোনো সার্বভৌম দেশের সরকারপ্রধানকে বন্দি বা হত্যা করতে অথবা শাসক পরিবর্তন করে দেশ দখল করে নিতে কোনো আইন বা যুক্তির তোয়াক্কা করে না। কারো কাছে জবাবদিহি করার প্রয়োজনও বোধ করে না। একবিংশ শতকে চীনের অর্থনৈতিক উত্থান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন যখন মার্কিন একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছিল, তখন অনেকেই একটি বহুমেরু বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে ২০২৬ সালে এসে মনে হচ্ছে, সেই উপসংহার হয়তো একটু দ্রুত টানা হয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, এখনো মার্কিন-জায়োনবাদী ব্যবস্থা দ্বারাই সারা বিশ্ব শাসিত হচ্ছে।
ইরাক আক্রমণের সময় গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাত দেওয়ার পর থেকেই কট্টর জায়োনবাদী নেতা নেতানিয়াহুর প্রতিটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন। ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের লক্ষ্য করে হত্যা এবং সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটির শাসক বদলে ফেলার প্রচেষ্টা, সবই নেতানিয়াহু অনায়াসে ওয়াশিংটনকে দিয়ে মার্কিনি সৈন্য, অস্ত্র ও অর্থ ব্যবহার করেই সম্পন্ন করে চলেছেন। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক এতটাই রহস্যময় যে, কে আসলে কাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। ক্ষমতার মদমত্ততায় পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা যে নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন, তাতে যেকোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র অপছন্দের দুর্বল দেশের বৈধ শাসককে উৎখাত ও হত্যার লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে এই প্রবণতা জঙ্গলের আইনকেও ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে অপছন্দের ভিনদেশি শাসকদের হত্যার পর প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সশস্ত্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হামাস গাজাসংলগ্ন ইসরাইল অংশে যে অপ্রত্যাশিত হামলা চালিয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্য কী ছিল, তা হয়তো ইতিহাসই বিচার করবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই হামলা ফিলিস্তিনের শিশু, নারী ও পুরুষের জন্য ভয়ংকর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে। সারা বিশ্বের চোখের সামনে হাজার হাজার কোমল, নিষ্পাপ শিশু ইসরাইলিদের নির্বিচার বোমা আর মিসাইলে ছিন্নভিন্ন হয়েছে। কিন্তু জায়োনবাদী সমর্থকদের কারো চোখ দিয়ে এক বিন্দু অশ্রু নির্গত হয়নি, কেউ সমবেদনার সঙ্গে একটি বাক্য উচ্চারণ করেনি। প্রিয়জনের লাশের সঙ্গে গাড়িতে বসে থাকা একাকী ছয় বছরের ক্রন্দনরত, অসহায় ফিলিস্তিনি বালিকা হিন্দ রজবকে কী নির্মমতার সঙ্গে ইসরাইলি সেনারা হত্যা করেছে, তার বর্ণনা দেওয়াও কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে এক অভুক্ত ফিলিস্তিনি শিশুর প্রশ্ন, “পৃথিবীর মানুষের মনে খেলনা পুতুলের প্রতি যে মায়া, আমাদের প্রতি কি তাও নেই?” মানবিক এই ট্র্যাজেডিতে নির্মোহ থাকা প্রায় অসম্ভব।
৭ অক্টোবরের পর মুহূর্তেই তাবৎ পশ্চিমা নেতাদের লাইন ধরে ইসরাইল সফর থেকেই ক্ষমতাধর বিশ্ব এস্টাবলিশমেন্টের সমবেদনা এবং সমর্থন কোন দিকে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তখন থেকেই জাতিসংঘকে অকার্যকর করে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ওয়াশিংটনের ফর্মুলার বাইরে যাওয়ার কোনো ক্ষমতা যে জাতিসংঘের নেই, তা প্রায় প্রতিদিন দেখা গেছে। চীন এবং রাশিয়ার ভূমিকা কেবল নিরাপত্তা পরিষদে শক্ত ‘রেটোরিক’ ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গাজায় গণহত্যা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সাহস কোনো দেশ দেখায়নি, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হয়তো সেই সামর্থ্যও নেই। ইরান আক্রমণ করে দেশটির নেতাদের হত্যার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্কেও চীন এবং রাশিয়াকে তেমন কোনো কঠোর প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়নি। আগের মতোই মৃদু নিন্দার মধ্য দিয়েই সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল আজ কেন এত অপ্রতিরোধ্য, তা বুঝতে হলে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক এবং ভূরাজনৈতিক কৌশলগত কারণ ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
প্রথমত, ধর্মীয় দিক। ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং ইসলাম ধর্মে ‘মেসিয়ার প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে নানা আলোচনা আছে। প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানদের মধ্যকার কট্টরপন্থি ‘ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান’রা জায়োনিজমের অন্ধ সমর্থক। এদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, ইসরাইল রাষ্ট্রের সব ন্যায়-অন্যায় কাজের সমর্থন করে যেতে হবে, যতক্ষণ না এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধশেষে (আরমাগেডন) সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ‘সেটলার কলোনিয়াল’ রাষ্ট্রটির একক অধিকারভুক্ত হয়। তাহলেই নাকি তাদের যিশুখ্রিষ্ট পৃথিবীতে ফিরবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ নাগরিক ‘ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান’ ধর্মে বিশ্বাসী এবং এদের অধিকাংশই আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোরতর সমর্থক। এই ‘ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান’রা মুসলমানদের রীতিমতো ঘৃণা করে। সুতরাং, ধর্মীয় কারণে এবং ভোটের হিসাব বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইসরাইলের ইচ্ছাকে সবার উপরে প্রাধান্য দিতেই হবে। তার ঘোষিত নীতি ‘আমেরিকা প্রথম’ হলেও তা কখনো ইসরাইলের স্বার্থকে অতিক্রম করতে পারবে না। সব ক্ষেত্রে ইসরাইলের স্বার্থই আমেরিকার স্বার্থ।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানির বৃহত্তম ভান্ডার হওয়ায় এলাকাটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালে বর্তমানে প্রবল শক্তিধর মার্কিন সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সে জন্যই মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘকে অকার্যকর করে দিয়ে এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইছে। উপসাগরীয় এলাকার সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি একত্রিত করে গাজায় একটি বৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বপ্নকে কবর দেওয়ার পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, গাজার মুক্তি সুদূরপরাহত।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালি, মিসরের ‘সুয়েজ ক্যানেল’ এবং গাজার পাশে ভূমধ্যসাগর কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ। গাজায় প্রধান মার্কিন ঘাঁটি নির্মিত হলে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব সমুদ্রপথের মালিকানাও সরাসরি মার্কিন দখলে চলে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইরান ব্যতীত সব মুসলিম দেশ অনেক আগেই মার্কিন আধিপত্য মেনে নিয়েছে। ইরান দখল সম্পন্ন হলে ওই অঞ্চলে একচ্ছত্র মার্কিন হেজেমনি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। এক্ষেত্রে চীন এবং রাশিয়ার শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
বর্তমান অসম বিশ্বব্যবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার চেহারাটাও কেমন দাঁড়াবে, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বরাবরই সুযোগ পেলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘মাই ফ্রেন্ড’ বলে প্রচার করতে পছন্দ করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করলে ধারণা করা হয়েছিল যে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত আবার প্রভু বনে বসবে। কিন্তু ট্রাম্পের এবারের মেয়াদের দক্ষিণ এশিয়ার নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা গেছে। ভারতকে খানিকটা দূরে সরিয়ে উল্টো পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ররাষ্ট্রের সম্পর্ক অপ্রত্যাশিতভাবে গভীর হয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ ভারতীয় বিমান বাহিনীর লজ্জাজনক পরাজয় ভারতের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে দৃশ্যত সন্দিহান করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরুর চার দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় মোদির বিশ্বগুরু হওয়ার বাসনাও প্রবল ধাক্কা খেয়েছে। বর্তমান পৃথিবীতে আসল ‘বিশ্বগুরু’ যে একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এটা এখন ভারতীয়রা সম্যক বুঝতে পেরেছে। এমন অবস্থায় ইসরাইলের শরণাপন্ন হওয়াই মোক্ষম উপায় মনে করে মোদি ভুল সময়ে তেল আবিব দৌড়ে গিয়ে কূটনৈতিকভাবে আবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। নেতানিয়াহুকে খুশি করার অতি উৎসাহে ইসরাইলি নেসেটে বক্তৃতা দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদি ইসরাইলকে পিতা এবং ভারতকে মাতা সম্বোধন করে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
এখানেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিড়ম্বনা শেষ হয়নি। তার ফিরতি উড়োজাহাজ আকাশে থাকতেই ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ এই ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক বছরে ইরান এবং রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে ভারত প্রচুর মুনাফাও কামিয়েছে। এখন মোদি নেতানিয়াহুর সঙ্গে গলাগলি করে ইরানের ধ্বংস কামনা করছেন। ভারতের একান্ত আশা যে তারা ইসরাইলের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পাকিস্তানকে শায়েস্তা করবে এবং নিজেদের সামরিক ব্যর্থতার লজ্জা থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। প্রথমত, নেতানিয়াহুর একার ইচ্ছায় পাকিস্তানের ওপর হামলা চালানো সম্ভব হবে না; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মত না হলে মোদির সব চেষ্টাই ব্যর্থ হবে। তবে পাকিস্তানিরাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা বিশ্বাস করবে, সেটা তাদেরই ভেবে দেখা উচিত। ১৯৪৭ সাল থেকে ইসলামাবাদকে কাছে টেনে আবার ছুড়ে ফেলে দিয়ে দিল্লিকে কাছে টানতে ওয়াশিংটন দ্বিতীয়বার ভাবেনি।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের পারমাণবিক যুদ্ধ বেঁধে গেলে বিজয় উপভোগ করার জন্য কেউ জীবিত নাও থাকতে পারে।
তৃতীয়ত, ইরান আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যে হঠকারিতা করেছে, তার চূড়ান্ত পরিণাম এখনো অজানা। আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ ইরানের সব শীর্ষ জেনারেলকে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বাহিনী হত্যা করতে সক্ষম হলেও, মাত্র ২০০ বছরের নব্য মার্কিন সাম্রাজ্য ৫ হাজার বছরের সভ্যতামণ্ডিত গর্বিত জাতিকে এত রক্তপাতেও আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি। অবিশ্বাস্য বীরত্বের সঙ্গে পাল্টা হামলা করে ইরান সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতার দর্পে হয়তো বুঝতে পারেননি যে, মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন শক্তি পারস্য দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা নয়। একটি সভ্য জাতির আত্মাভিমানকে ওয়াশিংটন সম্ভবত হিসাবের মধ্যেই নেয়নি।
এই অসম যুদ্ধে ইরানের জয়লাভের কোনো সুযোগ না থাকলেও, মার্কিন জায়োনবাদী এস্টাবলিশমেন্ট হিসাবে ভুল করে ফেলেছে। এতটা নগ্ন হেজেমনিক বিশ্বব্যবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। যুদ্ধের পরিণতি যা-ই হোক না কেন, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর কিংবা দক্ষিণ, পৃথিবীর সব অংশ থেকেই এ জাতীয় জবাবদিহিতাবিহীন হঠকারিতার অবসানের দাবি উঠতে হয়তো আর বেশি সময় লাগবে না। ইরানের বর্তমান শাসকদের হারানোর তেমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই। সুতরাং এরপর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পাল্টে যেতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির ইসরাইলে পিতা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও আর বিশেষ কোনো অর্থ বহন করবে না। ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তা, অবিশ্বস্ততা এবং প্রচণ্ড অহমিকার কারণে ভারত বিশ্বরাজনীতিতে ইতোমধ্যে ক্রমেই অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সংবাদে দেখা যাচ্ছে, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুনরায় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত আসতে শুরু করেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহে একই বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আবার লিখতে হবে। মানুষের শক্তি মদমত্ত অহমিকার অবসান ঘটুক, একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক—এই প্রত্যাশাই করি।
রিপোর্টারের নাম 

























