ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: তিন দিনের সফরে আজ আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনের সফরে আজ মঙ্গলবার ঢাকা আসছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন নীতিনির্ধারকের সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পল কাপুরের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। খসড়া সূচি অনুযায়ী, আজ রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে তিনি সরাসরি ঢাকায় পৌঁছাবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার সকালে পল কাপুর প্রথমে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বৈঠক করবেন। এরপর দিনের দ্বিতীয় ভাগে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সফরের শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মার্কিন এই প্রতিনিধি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরিতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে পল কাপুরের এই সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA) ও ‘আকসা’ (ACSA) নামক দুটি বিশেষায়িত চুক্তি সই করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জিসোমিয়া নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এ নিয়ে আলোচনা করে গেছে এবং সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় পল কাপুরের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন। এছাড়া, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত বা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত আসার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, পল কাপুরের এই সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: তিন দিনের সফরে আজ আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর

আপডেট সময় : ০৬:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনের সফরে আজ মঙ্গলবার ঢাকা আসছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন নীতিনির্ধারকের সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পল কাপুরের এই সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। খসড়া সূচি অনুযায়ী, আজ রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে তিনি সরাসরি ঢাকায় পৌঁছাবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার সকালে পল কাপুর প্রথমে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বৈঠক করবেন। এরপর দিনের দ্বিতীয় ভাগে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে তাঁর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সফরের শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মার্কিন এই প্রতিনিধি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরিতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে পল কাপুরের এই সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA) ও ‘আকসা’ (ACSA) নামক দুটি বিশেষায়িত চুক্তি সই করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জিসোমিয়া নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এ নিয়ে আলোচনা করে গেছে এবং সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় পল কাপুরের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন। এছাড়া, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত বা অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত আসার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, পল কাপুরের এই সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।