দেশের পানিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কারের একটি महत्वाकांক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের কৃষি ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী গতকাল সোমবার গাজীপুরের শ্রীপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান স্মৃতি বিজড়িত চৌক্কার খাল পরিদর্শন শেষে এক সুধী সমাবেশে একথা বলেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লবী উদ্যোগ, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে কৃষকদের কল্যাণে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব খাল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং দখলদারদের আগ্রাসনে তার কার্যকারিতা হারিয়েছিল, যা এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার এই খালগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকদের সুবিধার জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে চায় যাতে তারা অধিক পরিমাণে ফসল উৎপাদন করতে পারেন। যদিও সকলকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যেই লক্ষ্য করা যাবে।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব এবং সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আলম হোসেন এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























