ফেনীর পরশুরামে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হলো জনতা। কারাবন্দী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ইয়াছিন শরীফ মজুমদার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। সোমবার সকাল ১১টায় পরশুরাম পৌরসভার অনন্তপুর সলিয়া কোলাপাড়া ঈদগাহ মাঠে তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম মজুমদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে পরশুরাম বাজারের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে রফিকুল ইসলাম মজুমদারের ইন্তেকাল হয়। বাবার মৃত্যু সংবাদে শোকে স্তব্ধ হয়ে যান কারাবন্দী ইয়াছিন শরীফ। এই শোকাবহ মুহূর্তে বাবার শেষ বিদায়ের অংশ নিতে তাঁর স্ত্রী নাজিয়া সুলতানা আনিকা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর এই আবেদন মঞ্জুর করে তিন ঘণ্টার জন্য মুক্তির অনুমতি দেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফেনী জেলা কারাগার থেকে ইয়াছিন শরীফকে তাঁর গ্রামের বাড়ি অনন্তপুরে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানানোর পাশাপাশি তিনি তাঁর একমাত্র সন্তান ইয়ানাহ ইয়াসিন শরীফকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবার জানাজার খাটিয়া কাঁধে নিয়ে জানাজার স্থলে নিয়ে আসেন তিনি। জানাজার পূর্বে তিনি বলেন, “আমি বাবার হতভাগ্য ছেলে। বাবার অসুস্থতায় পাশে থাকতে পারিনি। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।” এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতেও তিনি জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি বাবার জানাজায় অংশ নেন। পরশুরাম উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ইব্রাহিম জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, পৌর বিএনপির আহবায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ, সদস্য সচিব মাহবুবুল হক মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হালিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, জানাজা শেষে প্যারোলে মুক্তির সময় শেষ হওয়ায় ইয়াছিন শরীফ মজুমদারকে পুনরায় জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় ইয়াছিন শরীফ মজুমদারকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। এই ঘটনাটি এক করুণ বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে, যেখানে একজন সন্তান তাঁর পিতার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানেও আইনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাননি।
রিপোর্টারের নাম 






















