সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল আযম ইমাম মনিরের ওপর এক দল সন্ত্রাসীর পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। হামলার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরাও লাঞ্ছিত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে যুবদল নেতা মিজান, বাবলু, মতলেব, মফু খাঁ সহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে রূপ নেয়। মানববন্ধনে প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগ উত্থাপনের এক পর্যায়ে মানববন্ধন চলাকালীন সময়েই আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর ও তার সঙ্গীরা হঠাৎ করে প্রেসক্লাব ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সভাপতির ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় বাধা দিতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদেরও ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা সভাপতি সামিউল মনিরকে টেনে-হিঁচড়ে প্রেসক্লাব চত্বরের বাইরে নিয়ে যান এবং ইট, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সামিউল মনিরকে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকির জানিয়েছেন, সভাপতির মাথার বাম পাশে শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে সামিউল মনিরের লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় শ্যামনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা এই ঘটনাকে একটি পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতির ওপর হামলা এবং সরাসরি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে, অভিযুক্তদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















