চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন হওয়ায় মাঠ প্রশাসনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের নির্দেশনাসহ সম্মেলন থেকে ডিসিরা মূলত মাঠ প্রশাসনে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাঠ প্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, চলতি বছরের সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করেন। চার দিনের (৩ মে থেকে ৬ মে) এ সম্মেলনে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী তার সাক্ষাৎ পেয়েছেন ডিসিরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন তারা। শেষ দিন মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পান ডিসিরা।
সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানিমূলক পরিস্থিতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















