‘ওলবাচিয়া’ একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া যা বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ পোকামাকড়ের শরীরে পাওয়া যায়। এটি ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফেভারের মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত কার্যকর জৈবিক পদ্ধতি। এই ব্যাকটেরিয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে এবং স্ত্রী মশার মাধ্যমে প্রজননের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবেশের জন্য নিরাপদ। ১৯৩৬ সালে বিজ্ঞানী মার্শাল হার্টিগ এবং এস বার্ট ওলবাক কিউলেক্স মশার মধ্যে প্রথম এই ব্যাকটেরিয়াটি আবিষ্কার করেন।
এই পদ্ধতির শুরুর প্রক্রিয়ায় ল্যাবরেটরিতে মশার শরীরে ওলবাচিয়া ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হয়। এরপর সেই মশাগুলোকে পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওলবাচিয়া বহনকারী পুরুষ মশা যখন সাধারণ স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন তাদের ডিম থেকে বাচ্চা হয় না। আর ওলবাচিয়া বহনকারী স্ত্রী মশা বংশবিস্তার করলে নতুন প্রজন্মেও এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে একবার এই মশা পরিবেশে ছেড়ে দিলে তা স্বাভাবিকভাবে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মশার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলেও ওলবাচিয়া তা মানুষের শরীরে ছড়াতে বাধা দেয়। এটি মানুষ, প্রাণী বা পরিবেশের জন্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
রিপোর্টারের নাম 
























