ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, ১৫ মাসে ১৫ খুন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বিএনপি’র দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই গত ১৫ মাসে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫ জনই দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী। পুলিশের তথ্য মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্তত ১৫টি সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে, এই সহিংসতায় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে একক উপজেলার জন্য একটি উদ্বেগজনক সংখ্যা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাউজানে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর মাঠে ফেরা দুই গ্রুপের মধ্যে পুরোনো বিবাদ দ্রুতই প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, বাজার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্র এই দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাউজান এখন এক সহিংসতাপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন রাজনীতির নামে চলছে গুলি, হামলা ও পাল্টা হামলা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই চলমান সংঘর্ষের মূলে রয়েছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা – সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী গোলাম আকবর খোন্দকার। তাদের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, গত দেড় বছরে রাউজানে হত্যা, গুলিবর্ষণ, টার্গেট কিলিং এবং মোটরসাইকেল স্কোয়াডের হামলা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, উভয় গ্রুপই তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, লোকবল নিয়োগ এবং এলাকাভিত্তিক সশস্ত্র দল গঠন করেছে। এর ফলে যেকোনো ছোটখাটো ঘটনাও মুহূর্তেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। পাশাপাশি, দুই গ্রুপই থানা পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে কিছু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ধীরগতিতে এবং অস্পষ্টভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এলাকার অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মীকে নিজের দলে টানার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, গোলাম আকবর খোন্দকার উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা অভিযোগ করছেন যে, কাদের চৌধুরী গ্রুপ পুরো থানা প্রশাসনকে নিজেদের লোক দিয়ে প্রভাবিত করছে। এই অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ কাদের চৌধুরী শিবিরও গোলাম আকবর খোন্দকারের গ্রুপের বিরুদ্ধে করছে। এই পারস্পরিক অভিযোগের জেরে এলাকায় ছোট ছোট সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যারা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, এলাকা দখল এবং প্রয়োজনে হত্যাকাণ্ড ঘটাতেও পিছপা হচ্ছে না।

রাউজানের সাম্প্রতিক সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো টার্গেট কিলিংয়ের নতুন কৌশল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চারটি হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের ধরণ লক্ষ্য করেছে। এই ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, দুই বা তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে এসে লক্ষ্যবস্তুকে নিশ্চিত করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো প্রক্রিয়াটি ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হয়। পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত ও প্রশিক্ষিত হিট স্কোয়াড হিসেবে চিহ্নিত করছে।

স্থানীয়দের ধারণা, এই স্কোয়াডগুলোর কাছে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য থাকে – কে কখন কোথায় থাকে, কার সাথে থাকে, কোন দোকানে বসে – সবকিছুই তারা জেনে নেয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কয়েকটি হত্যাকাণ্ড পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে ঘটেছে, তবুও হামলাকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাগুলো জনমনে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে যুবদল নেতা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০) হত্যার ঘটনায় নাঈম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়া হাটবাজারে আবদুল মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুখোশধারী কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালায়। অথচ এই বাজার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অবস্থিত।

নিহত আবদুল মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানিয়েছেন, এর আগেও তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেবার তিনি প্রাণে বাঁচলেও এবার রক্ষা পাননি। মুখোশ পরে এসে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যেখানে আবদুল মজিদকে হত্যা করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গত ৫ জানুয়ারি যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তিনিও পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখনো হামলাকারীরা মুখে কাপড় বেঁধে মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারা বটতল রশিদের পাড়া এলাকায় যুবদল কর্মী আলমগীর আলম মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে নিহত হন। একই বছরের ৭ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে অস্ত্রের বিস্তার একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় গ্রুপই নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি পিস্তল ও রিভলভার, ওয়ানশুটার গান, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মোটরসাইকেলে ব্যবহারের উপযোগী হালকা আগ্নেয়াস্ত্র এবং ফাঁকা গুলি ও সাইলেন্সারযুক্ত অস্ত্র।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জানে আলম হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় আসামিরা ঘটনা ঘটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার উভয়েই দাবি করেছেন যে তারা প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুই পক্ষের বক্তব্যে একই বার্তা – হত্যাকাণ্ড, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার লাগাম টেনে ধরতে এখন প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, ১৫ মাসে ১৫ খুন

আপডেট সময় : ০৯:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বিএনপি’র দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই গত ১৫ মাসে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫ জনই দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী। পুলিশের তথ্য মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্তত ১৫টি সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে, এই সহিংসতায় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে একক উপজেলার জন্য একটি উদ্বেগজনক সংখ্যা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাউজানে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর মাঠে ফেরা দুই গ্রুপের মধ্যে পুরোনো বিবাদ দ্রুতই প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, বাজার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্র এই দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাউজান এখন এক সহিংসতাপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন রাজনীতির নামে চলছে গুলি, হামলা ও পাল্টা হামলা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই চলমান সংঘর্ষের মূলে রয়েছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা – সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী গোলাম আকবর খোন্দকার। তাদের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, গত দেড় বছরে রাউজানে হত্যা, গুলিবর্ষণ, টার্গেট কিলিং এবং মোটরসাইকেল স্কোয়াডের হামলা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, উভয় গ্রুপই তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, লোকবল নিয়োগ এবং এলাকাভিত্তিক সশস্ত্র দল গঠন করেছে। এর ফলে যেকোনো ছোটখাটো ঘটনাও মুহূর্তেই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। পাশাপাশি, দুই গ্রুপই থানা পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে কিছু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ধীরগতিতে এবং অস্পষ্টভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এলাকার অধিকাংশ সিনিয়র নেতাকর্মীকে নিজের দলে টানার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, গোলাম আকবর খোন্দকার উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা অভিযোগ করছেন যে, কাদের চৌধুরী গ্রুপ পুরো থানা প্রশাসনকে নিজেদের লোক দিয়ে প্রভাবিত করছে। এই অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ কাদের চৌধুরী শিবিরও গোলাম আকবর খোন্দকারের গ্রুপের বিরুদ্ধে করছে। এই পারস্পরিক অভিযোগের জেরে এলাকায় ছোট ছোট সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যারা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, এলাকা দখল এবং প্রয়োজনে হত্যাকাণ্ড ঘটাতেও পিছপা হচ্ছে না।

রাউজানের সাম্প্রতিক সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো টার্গেট কিলিংয়ের নতুন কৌশল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চারটি হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের ধরণ লক্ষ্য করেছে। এই ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, দুই বা তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে এসে লক্ষ্যবস্তুকে নিশ্চিত করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো প্রক্রিয়াটি ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হয়। পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত ও প্রশিক্ষিত হিট স্কোয়াড হিসেবে চিহ্নিত করছে।

স্থানীয়দের ধারণা, এই স্কোয়াডগুলোর কাছে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য থাকে – কে কখন কোথায় থাকে, কার সাথে থাকে, কোন দোকানে বসে – সবকিছুই তারা জেনে নেয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কয়েকটি হত্যাকাণ্ড পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে ঘটেছে, তবুও হামলাকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাগুলো জনমনে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে যুবদল নেতা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০) হত্যার ঘটনায় নাঈম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়া হাটবাজারে আবদুল মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুখোশধারী কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালায়। অথচ এই বাজার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অবস্থিত।

নিহত আবদুল মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানিয়েছেন, এর আগেও তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেবার তিনি প্রাণে বাঁচলেও এবার রক্ষা পাননি। মুখোশ পরে এসে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যেখানে আবদুল মজিদকে হত্যা করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গত ৫ জানুয়ারি যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তিনিও পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখনো হামলাকারীরা মুখে কাপড় বেঁধে মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারা বটতল রশিদের পাড়া এলাকায় যুবদল কর্মী আলমগীর আলম মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে নিহত হন। একই বছরের ৭ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে অস্ত্রের বিস্তার একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় গ্রুপই নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি পিস্তল ও রিভলভার, ওয়ানশুটার গান, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মোটরসাইকেলে ব্যবহারের উপযোগী হালকা আগ্নেয়াস্ত্র এবং ফাঁকা গুলি ও সাইলেন্সারযুক্ত অস্ত্র।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জানে আলম হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় আসামিরা ঘটনা ঘটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার উভয়েই দাবি করেছেন যে তারা প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুই পক্ষের বক্তব্যে একই বার্তা – হত্যাকাণ্ড, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার লাগাম টেনে ধরতে এখন প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।