আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমান। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মো. আব্দুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোনো বিরতি নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি সারা বছর ধরেই বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই কমিশনের কর্মব্যস্ততা অব্যাহত থাকে। ঈদের ছুটির পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় প্রতীকে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম অধিবেশনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছে কমিশন। আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে প্রায়শই গণমাধ্যমের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের মুখে পড়তে হয় এবং সাংবাদিকরা সাংবিধানিকভাবে কমিশনের ভুলত্রুটিগুলো তুলে ধরেন, যা কমিশনকে আরও উন্নত করার পথ দেখায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি একটি ইতিবাচক দিক হলেও, কমিশনের লক্ষ্য হলো ‘ভালোর কোনো শেষ নেই’—এই নীতিতে কাজ করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমান তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে তিনজন শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদককে পুরস্কৃত করেন। অনলাইন ক্যাটাগরিতে বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ইকরাম-উদ দৌলা, টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে বৈশাখী টিভির সিনিয়র রিপোর্টার কাজী ফরিদ আহমেদ এবং পত্রিকা ক্যাটাগরিতে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার আল আমিন ‘বেস্ট রিপোর্টার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় ভোটার দিবস পালনের তারিখ পরিবর্তনের উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশন জাতীয় ভোটার দিবস পালনের তারিখ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে আগামী ২ মার্চ দিবসটি পালিত হলেও, এটি ১ মার্চে স্থানান্তরের জন্য কমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ‘ফেমবোসা’র চতুর্থ সভায় সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এরপর থেকেই বাংলাদেশে জাতীয় ভোটার দিবস পালনের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, পূর্বে ২০১৯ সালে ১ মার্চ তারিখে ভোটার দিবস পালিত হলেও, একই দিনে ‘বীমা দিবস’ পালিত হওয়ার কারণে ২০২০ সাল থেকে ভোটার দিবসকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণা করে ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন করে ১ মার্চ তারিখে দিবসটি পালনের জন্য কমিশন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
—
রিপোর্টারের নাম 























