ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

কারখানা বন্ধের ইঁদুর-বিড়াল খেলা, মাসে ক্ষতি ২৩৭ কোটি টাকা

কখনো গ্যাসের চাপ, কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে ওভার হোলিংয়ের নামে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সারকারখানার উৎপাদন ঘন ঘন বন্ধ হচ্ছে। এসব কারণে বছরের সিংহভাগ সময়ই বন্ধ থাকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় এই ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ১৭শ টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে উৎপাদন হয়েছে ১২শ টন। সেই হিসাবে মাসে ৩৬ হাজার টন ও বছরে ৪৩২ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল।

কারখানা সংশ্লিষ্ট ও সার সরবরাহকারী একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটন ইউরিয়া সার আমদানি করতে ৮৮ হাজার টাকা দর হিসাবে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই পরিমাণ সার যমুনায় উৎপাদন করতে খরচ হতো ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। একমাস যমুনা সারকারখানা বন্ধ থাকলে সার আমদানি করে ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।

অথচ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কৃত্রিম যান্ত্রিক ত্রুটি না হলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলে বছরে ৪৩২ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন হতো। এতে এই কারখানা থেকে উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেত। অথচ কৃষির ভরা মৌসুমে সারের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে ইউরিয়া আমদানির ফলে রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

ঘন ঘন সারকারখানা বন্ধের ইঁদুর-বিড়াল খেলার নেপথ্যের তথ্য অনুসন্ধানে কারখানাসংশ্লিষ্ট, সার সরবরাহকারীসহ একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যমুনা ফার্টিলাইজার লিমিটেডের চুক্তি হয়েছিল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের। কারখানা প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করলেও বর্তমানে নানা ইস্যু দেখিয়ে চুক্তি মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ করছে না তিতাস। গ্যাসের চাপ কম এবং যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে ওভার হোলিংয়ে (মেরামত বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে সচল করা) নেপথ্যে চলছে স্ক্র্যাপ পাচার করে কারাখানার ভেতরে-বাইরে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা । এদের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন ১৭শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন সারকারাখানাটি দিন দিন উৎপাদন কমে যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কম ইউরিয়া সার উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সারকারখানার একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট যমুনা সারকারখানা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে কারখানা বন্ধের আড়ালে এর যন্ত্রাংশ স্ক্র্যাপ দেখিয়ে পাচার করছে। এই চক্রের সঙ্গে কারখানার বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। ক্ষমতার পালবদলে শুধু হাত বদল হয়। তবে সবসময় সরকারি দলের অনুসারীরাই এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল পেঁয়াজ চাষ: বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কারখানা বন্ধের ইঁদুর-বিড়াল খেলা, মাসে ক্ষতি ২৩৭ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

কখনো গ্যাসের চাপ, কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে ওভার হোলিংয়ের নামে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সারকারখানার উৎপাদন ঘন ঘন বন্ধ হচ্ছে। এসব কারণে বছরের সিংহভাগ সময়ই বন্ধ থাকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় এই ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ১৭শ টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে উৎপাদন হয়েছে ১২শ টন। সেই হিসাবে মাসে ৩৬ হাজার টন ও বছরে ৪৩২ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল।

কারখানা সংশ্লিষ্ট ও সার সরবরাহকারী একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটন ইউরিয়া সার আমদানি করতে ৮৮ হাজার টাকা দর হিসাবে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই পরিমাণ সার যমুনায় উৎপাদন করতে খরচ হতো ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। একমাস যমুনা সারকারখানা বন্ধ থাকলে সার আমদানি করে ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।

অথচ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কৃত্রিম যান্ত্রিক ত্রুটি না হলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলে বছরে ৪৩২ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন হতো। এতে এই কারখানা থেকে উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেত। অথচ কৃষির ভরা মৌসুমে সারের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে ইউরিয়া আমদানির ফলে রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

ঘন ঘন সারকারখানা বন্ধের ইঁদুর-বিড়াল খেলার নেপথ্যের তথ্য অনুসন্ধানে কারখানাসংশ্লিষ্ট, সার সরবরাহকারীসহ একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যমুনা ফার্টিলাইজার লিমিটেডের চুক্তি হয়েছিল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের। কারখানা প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করলেও বর্তমানে নানা ইস্যু দেখিয়ে চুক্তি মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ করছে না তিতাস। গ্যাসের চাপ কম এবং যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে ওভার হোলিংয়ে (মেরামত বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে সচল করা) নেপথ্যে চলছে স্ক্র্যাপ পাচার করে কারাখানার ভেতরে-বাইরে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা । এদের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন ১৭শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন সারকারাখানাটি দিন দিন উৎপাদন কমে যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় কম ইউরিয়া সার উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সারকারখানার একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট যমুনা সারকারখানা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে কারখানা বন্ধের আড়ালে এর যন্ত্রাংশ স্ক্র্যাপ দেখিয়ে পাচার করছে। এই চক্রের সঙ্গে কারখানার বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। ক্ষমতার পালবদলে শুধু হাত বদল হয়। তবে সবসময় সরকারি দলের অনুসারীরাই এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে।