প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় বেশ কিছু সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খাল খনন কার্যক্রম তদারকির জন্য বিশেষ সেল গঠন সরকারের উন্নয়নমুখী মানসিকতারই প্রতিফলন। তবে সরকারের এসব ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাঝেও একটি কালো ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা।
বিশেষ করে নরসিংদীতে কিশোরী আমেনাকে বাবার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি পুরো দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সরিষাক্ষেতে পড়ে থাকা সেই নিথর দেহটি যেন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলো যখন জনমনে স্বস্তি দিচ্ছে, ঠিক তখনই এ ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকদের ঋণ মওকুফের এই মানবিক সিদ্ধান্তটি প্রাচীন উসমানীয় (অটোমান) সাম্রাজ্যের একটি মহতী ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় ‘দাফাতিরুল খায়ের’ বা ‘কল্যাণের নথি’ নামে একটি প্রথা প্রচলিত ছিল। পবিত্র রমজান মাসে বিত্তবানরা স্থানীয় মুদি দোকানে গিয়ে গোপনে দরিদ্র মানুষের বাকির খাতা বা দেনা পরিশোধ করে দিতেন। এতে ঋণগ্রহীতা ও দাতা—কেউ কারো পরিচয় জানতেন না, ফলে দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মান বজায় থাকত। বর্তমান সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তটি হয়তো সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের হুবহু প্রতিফলন নয়, তবে পবিত্র রমজান মাসে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় ধরনের একটি স্বস্তির বার্তা।
প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতেও সরকার প্রধানের কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। রমজান মাসেও সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটির সভায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনে এক নতুন কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তবে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এই কর্মযজ্ঞ সার্থক হবে কি, যদি নাগরিকের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়? নরসিংদীর আমেনার মতো আর কোনো কিশোরীকে যেন এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে না হয়, সেটিই এখন নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা। মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে উন্নয়নের পাশাপাশি অপরাধীদের কঠোর বিচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























