ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গুনিয়ার গ্রামীণ সড়কে চরম দুরবস্থা, জনজীবনে স্থবিরতা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছে। এর ফলে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কোদালা ইউনিয়নের জামছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিনেও কোনো সড়ক পাকা করা হয়নি। তারা বলেন, “নেতারা আসেন, ভোট চান, কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের আর দেখা মেলে না।” চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের চৌধুরী গুট্টা, মহাজন বট্টল, ফেরিঘাট সড়কসহ প্রায় ৮০ শতাংশ সড়ক পথই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, মফস্বলের বেশিরভাগ ছোট সড়কগুলোর ইটের স্তর উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চারটি ইউনিয়নের চিত্রও একই রকম। ভাঙা সড়কগুলো দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও, বর্ষায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশেও একই দুরবস্থা। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীরা জানান, সড়কের বড় বড় গর্তে প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হয়। রাতের বেলায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি বিরোধে পীরগাছায় বৃদ্ধ খুন, আহত ২

রাঙ্গুনিয়ার গ্রামীণ সড়কে চরম দুরবস্থা, জনজীবনে স্থবিরতা

আপডেট সময় : ০৬:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছে। এর ফলে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কোদালা ইউনিয়নের জামছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিনেও কোনো সড়ক পাকা করা হয়নি। তারা বলেন, “নেতারা আসেন, ভোট চান, কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের আর দেখা মেলে না।” চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের চৌধুরী গুট্টা, মহাজন বট্টল, ফেরিঘাট সড়কসহ প্রায় ৮০ শতাংশ সড়ক পথই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

উত্তর রাঙ্গুনিয়ার সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, মফস্বলের বেশিরভাগ ছোট সড়কগুলোর ইটের স্তর উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার চারটি ইউনিয়নের চিত্রও একই রকম। ভাঙা সড়কগুলো দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও, বর্ষায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশেও একই দুরবস্থা। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীরা জানান, সড়কের বড় বড় গর্তে প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হয়। রাতের বেলায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।