ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ হামলা: সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফের আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি চালিয়েছে। শনিবার (আজ) সকাল ৬টার দিকে চন্দনপুরা এলাকার এই ঘটনায় ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বিদেশে পলাতক চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়েছিল। সেই ঘটনায় বাসার জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল এবং দরজাতেও গুলি লেগেছিল। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িটি সার্বক্ষণিক পুলিশের পাহারায় ছিল। এমন নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও পুনরায় গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। প্রথমে ১০ কোটি টাকা এবং পরে তা কমিয়ে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২ জানুয়ারি প্রথমবার তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এরপরও চাঁদা না পেয়ে প্রায় ২০ দিন আগে সাজ্জাদ হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান, যেখানে লেখা ছিল ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সকালে নামাজ পড়ে আমরা যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখন সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনের দিক থেকে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে শুরু করে। তারা ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি চালায়।”

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, চারজন অস্ত্রধারী ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এদের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে আসে। গাড়িটি কিছুটা দূরে রেখে তারা পায়ে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তার সহযোগী-অনুসারীদের দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদা আদায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ হামলা: সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফের আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি চালিয়েছে। শনিবার (আজ) সকাল ৬টার দিকে চন্দনপুরা এলাকার এই ঘটনায় ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বিদেশে পলাতক চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়েছিল। সেই ঘটনায় বাসার জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল এবং দরজাতেও গুলি লেগেছিল। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িটি সার্বক্ষণিক পুলিশের পাহারায় ছিল। এমন নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও পুনরায় গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছেন। প্রথমে ১০ কোটি টাকা এবং পরে তা কমিয়ে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২ জানুয়ারি প্রথমবার তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এরপরও চাঁদা না পেয়ে প্রায় ২০ দিন আগে সাজ্জাদ হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান, যেখানে লেখা ছিল ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সকালে নামাজ পড়ে আমরা যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখন সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনের দিক থেকে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে শুরু করে। তারা ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি চালায়।”

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, চারজন অস্ত্রধারী ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এদের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে আসে। গাড়িটি কিছুটা দূরে রেখে তারা পায়ে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তার সহযোগী-অনুসারীদের দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদা আদায়।