আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরুর অনুমোদন দিয়েছে। আদালতের প্রাক-বিচারিক বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে এই অভিযোগগুলো নিশ্চিত করেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
৮১ বছর বয়সী দুতার্তের বিরুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত তার বিতর্কিত “মাদকবিরোধী যুদ্ধ” চলাকালে হাজার হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রাক-বিচারিক বিচারকরা এই অভিযোগগুলো ‘সর্বসম্মতিক্রমে নিশ্চিত’ করেছেন এবং তাদের কাছে ‘বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ’ ছিল যে দুতার্তে অভিযুক্ত অপরাধগুলো করেছেন। দুতার্তে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন এবং এ সময়ে তিনি বারবার মুক্তির আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।
দুতার্তে আইসিসির বিচার প্রক্রিয়া মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। তার যুক্তি হলো, ফিলিপাইন ২০১৯ সালে রোম সংবিধি থেকে সরে দাঁড়ানোয় আইসিসির বিচারের এখতিয়ার নেই। তবে আইসিসির বিচারকরা রায় দিয়েছেন যে, অভিযোগিত অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে ফিলিপাইন আইসিসির সদস্য থাকা অবস্থায়, তাই আদালত এই মামলার বিচার করতে পারবে। এই মামলায় ৫০০-রও বেশি ভুক্তভোগীকে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানে মূলত ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ বড় অপরাধীদের ধরা হয়নি। তবে দুতার্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ভয়াবহ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালিয়েছে। গত বছর ম্যানিলা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর দুতার্তেকে নেদারল্যান্ডসের হেগে আনা হয়। তার মেয়ে সারা দুতার্তে এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মারকোস জুনিয়রের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এই গ্রেপ্তারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























