ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা ও ‘সরাসরি যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারি: ঘনীভূত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সংকট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানের কাবুলসহ তিনটি প্রদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইসলামাবাদের এই কঠোর অবস্থানকে বিশ্লেষকরা কাবুলের বিরুদ্ধে একটি ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবেই দেখছেন।

আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ও বিপজ্জনক সংকেত। ইসলামাবাদ মূলত আফগান তালেবান সরকারকে একটি কঠোর বার্তা বা ‘শাস্তি’ দিতে চাইছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের দেশে গত কয়েক বছরে হওয়া একাধিক প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিচ্ছে আফগান তালেবান। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় ও সহযোগিতার বিষয়ে বারবার সতর্ক করার পর এখন ইসলামাবাদ সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আরব অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা আমিন সইকাল এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান এখন আর কেবল কূটনৈতিক চাপে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা সরাসরি আঘাত হানার মাধ্যমে আফগান তালেবানকে দুর্বল করতে এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। গত এক বা দুই বছরে পাকিস্তানে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইসলামাবাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করা আফগান জনগণের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধ বা বড় ধরনের সামরিক সংঘাত জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা ও ‘সরাসরি যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারি: ঘনীভূত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সংকট

আপডেট সময় : ১০:১৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানের কাবুলসহ তিনটি প্রদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইসলামাবাদের এই কঠোর অবস্থানকে বিশ্লেষকরা কাবুলের বিরুদ্ধে একটি ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবেই দেখছেন।

আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ও বিপজ্জনক সংকেত। ইসলামাবাদ মূলত আফগান তালেবান সরকারকে একটি কঠোর বার্তা বা ‘শাস্তি’ দিতে চাইছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের দেশে গত কয়েক বছরে হওয়া একাধিক প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিচ্ছে আফগান তালেবান। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় ও সহযোগিতার বিষয়ে বারবার সতর্ক করার পর এখন ইসলামাবাদ সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আরব অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা আমিন সইকাল এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান এখন আর কেবল কূটনৈতিক চাপে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা সরাসরি আঘাত হানার মাধ্যমে আফগান তালেবানকে দুর্বল করতে এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। গত এক বা দুই বছরে পাকিস্তানে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইসলামাবাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করা আফগান জনগণের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধ বা বড় ধরনের সামরিক সংঘাত জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।