মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরাইল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের আপাতত ইসরাইলে ভ্রমণ না করার জন্যও কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল যতক্ষণ স্বাভাবিক রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই যেন নাগরিকরা দেশ ছাড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মূলত ইরানে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এই আগাম সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। যদিও আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সংকট নিরসনে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইতোমধ্যে দুটি রণতরীসহ এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হলে যে কোনো সময় সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মীদের পাঠানো এক বিশেষ ইমেইল বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, যারা ইসরাইল ছাড়তে ইচ্ছুক তারা যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করেন। যে কোনো দেশের টিকিট পাওয়া মাত্রই ইসরাইল ত্যাগ করে পরবর্তীতে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই সংকটের মূলে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং দেশটির প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এই অনমনীয় শর্তের কারণেই মূলত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















