ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীনে মুসলিম নারীদের জীবন: ধর্ম, পেশা ও সংস্কৃতির এক অনন্য চিত্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের একজন শিক্ষক হিসেবে চীনের ইউননান প্রদেশে বসবাস করার সুবাদে দেশটির মুসলিম নারীদের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বহির্বিশ্বে চীনের মুসলিম নারীদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। ধর্মচর্চা, পেশাগত সাফল্য এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণ করে দেশটির মুসলিম নারীরা যে এক প্রাণবন্ত ও স্বাধীন জীবনযাপন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য আমি আমার বাসস্থানের কাছাকাছি কুনমিং শহরের লিয়ান্ডা স্ট্রিটের হুই মুসলিম কমিউনিটির মসজিদে যাই। ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ছ্যংকুং জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছেই আমার নিবাস। হুইহুইইন মহল্লার এই বহুতল মসজিদটিতে নামাজ পড়ার অভিজ্ঞতা সবসময়ই চমৎকার। এখানে স্থানীয় মুসলিমদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরাও নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে, এই মসজিদের দোতলায় নারীদের জন্য একটি বিশাল ও সুসজ্জিত নামাজ কক্ষ রয়েছে, যা আমাকে মুগ্ধ করে।

কুনমিং শহরে অসংখ্য মসজিদ রয়েছে এবং প্রতিটি মসজিদেই নারীদের নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা বিদ্যমান। চীনের প্রায় প্রতিটি শহরেই মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে এবং তাদের জন্য মসজিদ রয়েছে। এই সব মসজিদেই পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—কোথাও সম্পূর্ণ পৃথক কক্ষের মাধ্যমে, আবার কোথাও একই হলঘরে পর্দা দিয়ে পৃথক করে। এটি চীনের মুসলিম সমাজের একটি সাধারণ চিত্র।

চীন ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল, যার মধ্যে দশটি জাতি ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। উইগুর, তাজিক, কাজাখ, তাতার, হুইসহ এই জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ইসলাম ধর্ম পালন করে। তাদের জীবনযাত্রায় ধর্ম ও সংস্কৃতির এক সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।

আমার চীনে অবস্থানের সময় অনেক মুসলিম নারীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কুনমিং শহরে আমার এমন অনেক মুসলিম নারী বন্ধু আছেন, যারা শিক্ষকতা, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সিনচিয়াং অঞ্চলের উইগুর, তাজিক, কাজাখ জাতিগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গেও আমার আলাপ হয়েছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাদের মধ্যেও ধর্মপালন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং পেশাগত উন্নতির এক অসাধারণ সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। সামগ্রিকভাবে, চীনের মুসলিম নারীরা ধর্ম, সংস্কৃতি ও পেশার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মার্ট নজরদারিতে শরীয়তপুর: ১২০টি এআই ক্যামেরার আওতায় পুরো শহর

চীনে মুসলিম নারীদের জীবন: ধর্ম, পেশা ও সংস্কৃতির এক অনন্য চিত্র

আপডেট সময় : ১২:২২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের একজন শিক্ষক হিসেবে চীনের ইউননান প্রদেশে বসবাস করার সুবাদে দেশটির মুসলিম নারীদের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বহির্বিশ্বে চীনের মুসলিম নারীদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে। ধর্মচর্চা, পেশাগত সাফল্য এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণ করে দেশটির মুসলিম নারীরা যে এক প্রাণবন্ত ও স্বাধীন জীবনযাপন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য আমি আমার বাসস্থানের কাছাকাছি কুনমিং শহরের লিয়ান্ডা স্ট্রিটের হুই মুসলিম কমিউনিটির মসজিদে যাই। ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ছ্যংকুং জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছেই আমার নিবাস। হুইহুইইন মহল্লার এই বহুতল মসজিদটিতে নামাজ পড়ার অভিজ্ঞতা সবসময়ই চমৎকার। এখানে স্থানীয় মুসলিমদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরাও নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে, এই মসজিদের দোতলায় নারীদের জন্য একটি বিশাল ও সুসজ্জিত নামাজ কক্ষ রয়েছে, যা আমাকে মুগ্ধ করে।

কুনমিং শহরে অসংখ্য মসজিদ রয়েছে এবং প্রতিটি মসজিদেই নারীদের নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা বিদ্যমান। চীনের প্রায় প্রতিটি শহরেই মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে এবং তাদের জন্য মসজিদ রয়েছে। এই সব মসজিদেই পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—কোথাও সম্পূর্ণ পৃথক কক্ষের মাধ্যমে, আবার কোথাও একই হলঘরে পর্দা দিয়ে পৃথক করে। এটি চীনের মুসলিম সমাজের একটি সাধারণ চিত্র।

চীন ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল, যার মধ্যে দশটি জাতি ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। উইগুর, তাজিক, কাজাখ, তাতার, হুইসহ এই জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ইসলাম ধর্ম পালন করে। তাদের জীবনযাত্রায় ধর্ম ও সংস্কৃতির এক সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।

আমার চীনে অবস্থানের সময় অনেক মুসলিম নারীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। কুনমিং শহরে আমার এমন অনেক মুসলিম নারী বন্ধু আছেন, যারা শিক্ষকতা, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সিনচিয়াং অঞ্চলের উইগুর, তাজিক, কাজাখ জাতিগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গেও আমার আলাপ হয়েছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাদের মধ্যেও ধর্মপালন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং পেশাগত উন্নতির এক অসাধারণ সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। সামগ্রিকভাবে, চীনের মুসলিম নারীরা ধর্ম, সংস্কৃতি ও পেশার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।