ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে শিশুর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে জমে থাকা পানিতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জনতা। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য বিচার চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একইসাথে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে কোনো চক্রান্ত থাকতে পারে।

নিহত শিশুটির নাম তাহেদী আক্তার, সে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে। পরিবারটি পশ্চিম উলন এলাকার ১২/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত।

নিহতের চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে খেলার জন্য বাসা থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য তৈরি করা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে তাকে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশটি বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। চাচা স্বপন মিয়া বলেন, “আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেটভর্তি পানি থাকার কথা। কিন্তু তার পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুখে বিস্কুটের গুঁড়ো পাওয়া গেছে, যা পানিতে ডুবে গেলে থাকার কথা নয়। এই মৃত্যু নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট হবে শিশুটি একা বাসা থেকে বের হয়েছিল, নাকি তাকে কেউ নিয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, “আজ রাতে (গতকাল বুধবার রাতে) শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা থানায় এসে অবস্থান নেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আজ (গতকাল) তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বর্তমানে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা না হলেও, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশ ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে শিশুর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও

আপডেট সময় : ১০:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে জমে থাকা পানিতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জনতা। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য বিচার চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একইসাথে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে কোনো চক্রান্ত থাকতে পারে।

নিহত শিশুটির নাম তাহেদী আক্তার, সে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে। পরিবারটি পশ্চিম উলন এলাকার ১২/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত।

নিহতের চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে খেলার জন্য বাসা থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য তৈরি করা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে তাকে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশটি বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। চাচা স্বপন মিয়া বলেন, “আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেটভর্তি পানি থাকার কথা। কিন্তু তার পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুখে বিস্কুটের গুঁড়ো পাওয়া গেছে, যা পানিতে ডুবে গেলে থাকার কথা নয়। এই মৃত্যু নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট হবে শিশুটি একা বাসা থেকে বের হয়েছিল, নাকি তাকে কেউ নিয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, “আজ রাতে (গতকাল বুধবার রাতে) শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা থানায় এসে অবস্থান নেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আজ (গতকাল) তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বর্তমানে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা না হলেও, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশ ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।