ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রশ্নে সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক করব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

## সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার: আধুনিকায়নের পথে সীমান্ত বাহিনী

ঢাকা: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার সীমান্ত বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের প্রশ্নে এই বাহিনীকে আরও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পেশাগতভাবে দক্ষ করে তুলতে বদ্ধপরিকর। সীমান্তরক্ষীরা দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৭ বছর পরও শহীদ পরিবারগুলো বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ঘটনা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বল দিকগুলো উন্মোচন করেছে। তাই এই কাঠামোকে উন্নত করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তৎকালীন ইপিআর সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তিনি স্মরণ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর সামরিক কায়দায় পুনর্গঠন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল।

মাহে রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের শিক্ষা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি শহীদদের আত্মাকে শান্তি দান করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দেন এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

দেশের প্রশ্নে সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক করব

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার: আধুনিকায়নের পথে সীমান্ত বাহিনী

ঢাকা: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার সীমান্ত বাহিনীকে আধুনিক ও সুসংহত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের প্রশ্নে এই বাহিনীকে আরও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পেশাগতভাবে দক্ষ করে তুলতে বদ্ধপরিকর। সীমান্তরক্ষীরা দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৭ বছর পরও শহীদ পরিবারগুলো বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ঘটনা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বল দিকগুলো উন্মোচন করেছে। তাই এই কাঠামোকে উন্নত করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তৎকালীন ইপিআর সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তিনি স্মরণ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর সামরিক কায়দায় পুনর্গঠন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল।

মাহে রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের শিক্ষা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি শহীদদের আত্মাকে শান্তি দান করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দেন এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।