## শিরোনাম: সৌদি নির্যাতন শেষে দেশে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি নারী: পরিচয় শনাক্তে আঙুলের ছাপ, নির্মম নির্যাতনের চিত্র উন্মোচিত
লিড প্যারাগ্রাফ: সৌদি আরবে ভয়াবহ নির্যাতন ও পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন দুই বাংলাদেশি নারী। একজন দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ফিরেছেন, অন্যজন অভিযোগ করেছেন তাকে চারবার বিক্রি করা হয়েছে এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনাগুলো প্রবাসী নারী কর্মীদের সুরক্ষা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
বিস্তারিত বর্ণনা:
সৌদি আরবে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন দুই বাংলাদেশি নারী। তাদের মধ্যে রিজিয়া বেগম (৪০) নামক এক নারী দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরেন। অন্যজন, যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তিনি অভিযোগ করেছেন যে তাকে সৌদি আরবে চারবার বিক্রি করা হয়েছে এবং তিনি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তায় বর্তমানে দুই নারীই নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রিজিয়া বেগম। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি নিজের নাম-ঠিকানাও বলতে পারছিলেন না এবং তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রিজিয়ার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের মা। গত মঙ্গলবার উত্তরার আশকোনায় ব্র্যাক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, রিজিয়ার শারীরিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাকে চিনতেই কষ্ট হচ্ছে।
রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে এটিবি ওভারসিজ লিমিটেড নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তার মা গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। শুরু থেকেই তিনি নিয়োগকর্তার বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন। ২০২১ সালের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবার ২০২৩ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর সুরাহা পায়নি বলে দাবি করেন তারা। লিজা বলেন, “মা এখন কোনো কথাই বলছেন না। কী হয়েছে, কোথায় ছিলেন—কিছুই বলতে পারছেন না।”
একই অনুষ্ঠানে ছদ্মনাম রিমা আক্তার (পরিচয় গোপন রাখা হলো) নামে সৌদি ফেরত আরেক নারী তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে এক নিয়োগকর্তা থেকে আরেকজনের কাছে বিক্রি করা হয়—এভাবে চারবার হাতবদল হয় বলে অভিযোগ তার। রিমার দাবি, প্রতিটি জায়গায় তাকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দরে অবতরণের পর এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তাকে ব্র্যাকের জিম্মায় দেয়।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, সাধারণত অপরাধী শনাক্তে কাজ করলেও এবার প্রথমবারের মতো বিদেশফেরত এক ভুক্তভোগী নারী কর্মীর পরিচয় শনাক্তে তারা সরাসরি কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রবাসে এমন পরিস্থিতির পেছনে দায়ী পাচারকারী বা রিক্রুটিং চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর আশকোনায় আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিমানবন্দর এপিবিএন, ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুধু উদ্ধার নয়, যারা তাদের এই অবস্থার জন্য দায়ী, সেই অসাধু এজেন্সি ও পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
রিপোর্টারের নাম 






















