ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ভোটের মাঠে চরম বিতর্কিত মন্তব্য: ‘জামায়াতকে ভোট দিলে স্ত্রীকে তালাক দিন’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপের মধ্যে এক রাজনৈতিক নেতার কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনমনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উপস্থিত পুরুষ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেয়, তবে তাকে তালাক দেওয়া উচিত।

জনসভায় দেওয়া ওই নেতার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বামীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের ক্ষেত্রেও স্ত্রীকে তা মেনে চলতে হবে। এটি অমান্য করলে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উসকানি দেন তিনি।

মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশ্লেষকরা এই বক্তব্যকে নারীর মৌলিক অধিকার এবং দেশের সংবিধানের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, ভোটাধিকার একজন নাগরিকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বাধীন বিষয়। সেখানে ধর্মীয় বা পারিবারিক বিচ্ছেদের হুমকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করা কেবল অনৈতিকই নয়, বরং প্রচলিত নির্বাচনী আচরণবিধিরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নারীবাদী সংগঠনগুলো এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের মধ্যযুগীয় মানসিকতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়।

এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সচেতন মহল এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেকেই এই নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সমন্বিত হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কাঠামোতে আঘাত

ভোটের মাঠে চরম বিতর্কিত মন্তব্য: ‘জামায়াতকে ভোট দিলে স্ত্রীকে তালাক দিন’

আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপের মধ্যে এক রাজনৈতিক নেতার কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনমনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উপস্থিত পুরুষ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেয়, তবে তাকে তালাক দেওয়া উচিত।

জনসভায় দেওয়া ওই নেতার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বামীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের ক্ষেত্রেও স্ত্রীকে তা মেনে চলতে হবে। এটি অমান্য করলে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উসকানি দেন তিনি।

মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশ্লেষকরা এই বক্তব্যকে নারীর মৌলিক অধিকার এবং দেশের সংবিধানের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, ভোটাধিকার একজন নাগরিকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বাধীন বিষয়। সেখানে ধর্মীয় বা পারিবারিক বিচ্ছেদের হুমকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করা কেবল অনৈতিকই নয়, বরং প্রচলিত নির্বাচনী আচরণবিধিরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নারীবাদী সংগঠনগুলো এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের মধ্যযুগীয় মানসিকতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়।

এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সচেতন মহল এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেকেই এই নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।