ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রেখেছে সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক কাঠামো এবং দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, মার্কিন বাণিজ্য পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটটি এখনও পরিবর্তনশীল বা ‘ইভলভিং’, তাই এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী দিনের বাণিজ্য কৌশল নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের নির্ধারিত ট্যারিফ বা শুল্ক বজায় রাখার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। এরপর সব দেশের জন্য তারা প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত নথি পায়নি। তিনি আরও জানান, মার্কিন আইন অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত ১২২ ধারার ব্যাখ্যা সাপেক্ষে ১৫০ দিনের মধ্যে সে দেশের কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হয়। বর্তমানে বিষয়টি কেবল সংবাদমাধ্যমেই দেখা যাচ্ছে, দাপ্তরিকভাবে কোনো তথ্য না আসায় পুরো পরিস্থিতিকে সরকার ‘বিকাশমান’ হিসেবে দেখছে।

বিগত সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই চুক্তির ভালো-মন্দ এবং এর প্রভাব নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। যেকোনো চুক্তিরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিক থাকে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সরকার সময় নিচ্ছে।

চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলোচনার সময় কিছু ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তার শর্ত থাকে, যা আন্তর্জাতিক রীতির অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। ফলে এ বিষয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী আরও জানান, কেবল মার্কিন ইস্যু নয়, বরং দেশের বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে একযোগে বাজার করার প্রবণতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি লেবুর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন, যা পরবর্তীতে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবনির্বাচিত সরকারের কাছে উপকূলবাসীর আকুতি: টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রেখেছে সরকার

আপডেট সময় : ০৮:১৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক কাঠামো এবং দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, মার্কিন বাণিজ্য পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটটি এখনও পরিবর্তনশীল বা ‘ইভলভিং’, তাই এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী দিনের বাণিজ্য কৌশল নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের নির্ধারিত ট্যারিফ বা শুল্ক বজায় রাখার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। এরপর সব দেশের জন্য তারা প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত নথি পায়নি। তিনি আরও জানান, মার্কিন আইন অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত ১২২ ধারার ব্যাখ্যা সাপেক্ষে ১৫০ দিনের মধ্যে সে দেশের কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হয়। বর্তমানে বিষয়টি কেবল সংবাদমাধ্যমেই দেখা যাচ্ছে, দাপ্তরিকভাবে কোনো তথ্য না আসায় পুরো পরিস্থিতিকে সরকার ‘বিকাশমান’ হিসেবে দেখছে।

বিগত সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই চুক্তির ভালো-মন্দ এবং এর প্রভাব নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। যেকোনো চুক্তিরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিক থাকে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সরকার সময় নিচ্ছে।

চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলোচনার সময় কিছু ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তার শর্ত থাকে, যা আন্তর্জাতিক রীতির অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। ফলে এ বিষয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী আরও জানান, কেবল মার্কিন ইস্যু নয়, বরং দেশের বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে একযোগে বাজার করার প্রবণতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি লেবুর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন, যা পরবর্তীতে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।