সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ থেকে অন্তত ২০টি গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধের গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি সংলগ্ন বেড়িবাঁধে সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল বহু বছর আগে। বাঁধের সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব গাছের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাতের আঁধারে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবুল কাশেম গাছগুলো কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর মধ্যে মেহগনি, রেইনট্রি, বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রি করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বেড়িবাঁধের গাছগুলোও কেটে ফেলে তা বিক্রি করে দিয়েছেন। এর ফলে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই বাঁধ আমাদের জীবন-জীবিকার রক্ষা কবচ। গাছগুলো কেটে ফেলায় আমাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না।”
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন’-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেড়িবাঁধের গাছ কেটে ফেলা একটি পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ। এটি শুধু মাটির ক্ষয়রোধ ক্ষমতা কমায় না, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এলাকার মানুষকে অরক্ষিত করে তোলে। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল কাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি কোনো গাছ কাটিনি।”
তবে স্থানীয় বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















