ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: নেপথ্যের কুশীলব খুঁজতে নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত ও রক্তঝরা অধ্যায় ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ আজ ১৭ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। দীর্ঘ দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ ও কুশীলবরা এখনো আড়ালে রয়ে গেছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার ন্যায়বিচারের নতুন আশা জেগেছে। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে পিলখানা দিবস। শহীদদের স্মরণে বিজিবি সদর দপ্তরসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে সেইসব অকুতোভয় বীরদের, যারা দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত থেকেও নিজ বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিয়েছিলেন।

ঘটনার দিনলিপি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। সকাল ৯টায় পিলখানার দরবার হলে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বিদ্রোহের তান্ডব। তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও উপমহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বারীসহ উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাতকরা। প্রায় ২ হাজার ৫৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সেই আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই এক বীভৎস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই দিনব্যাপী চলা সেই পৈশাচিক তান্ডবে নারী ও শিশুরাও ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

বিগত সরকারগুলোর আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চললেও এর পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপূর্ণতা দূর করতে এবং জনমনে থাকা সংশয় নিরসনে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই কমিশনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নৌবাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ইরানের দ্বিতীয় সুপারট্যাংকার

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: নেপথ্যের কুশীলব খুঁজতে নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত ও রক্তঝরা অধ্যায় ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ আজ ১৭ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। দীর্ঘ দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ ও কুশীলবরা এখনো আড়ালে রয়ে গেছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার ন্যায়বিচারের নতুন আশা জেগেছে। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে পিলখানা দিবস। শহীদদের স্মরণে বিজিবি সদর দপ্তরসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে সেইসব অকুতোভয় বীরদের, যারা দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত থেকেও নিজ বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিয়েছিলেন।

ঘটনার দিনলিপি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। সকাল ৯টায় পিলখানার দরবার হলে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বিদ্রোহের তান্ডব। তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও উপমহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বারীসহ উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাতকরা। প্রায় ২ হাজার ৫৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সেই আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই এক বীভৎস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই দিনব্যাপী চলা সেই পৈশাচিক তান্ডবে নারী ও শিশুরাও ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

বিগত সরকারগুলোর আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চললেও এর পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপূর্ণতা দূর করতে এবং জনমনে থাকা সংশয় নিরসনে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই কমিশনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।