আগামী তিন মাসের মধ্যে বন্ধ থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার পুনরায় সচল করার পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স স্থগিতসহ কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রথম তিন মাসের কর্মপরিকল্পনায় বন্ধ শ্রমবাজারগুলো উন্মুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কোন দেশে কী ধরনের শ্রম চাহিদা রয়েছে তা যাচাই করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশের মিশনগুলোতে লেবার উইংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনিয়ম প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্সধারী এজেন্সি রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তারা সাব-এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এবং প্রতারণা করছে। যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের কার্যক্রম প্রয়োজনে স্থগিত করা হবে। কারণ, তাদের অনিয়মের ফলে কেবল একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং বিদেশের বাজারে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জাপানে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্যমাত্রাকে ১০ লাখে উন্নীত করতে কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হলো জাপানিজ ভাষা। কর্মীদের ভাষা দক্ষ করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বন্ধ থাকা শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহরাইন, ওমান ও মালয়েশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো বর্তমানে সীমিত বা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বাজারটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তগুলো শিথিল করে দ্রুততম সময়ে বাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রবাসীদের মানবিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া মরদেহ পরিবহনের জন্য বিমানবন্দরে আগে তিনটি ফ্রিজিং গাড়ি থাকলেও আজ থেকে আরও দুটি নতুন গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে।
বিদেশে গমনেচ্ছু ও বিদেশফেরত কর্মীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বর্তমানে ফেরত আসা কর্মীদের জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা আছে, যা আরও বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা দক্ষ কিন্তু অর্থের অভাবে বিদেশে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিবাসন ব্যয় বর্তমানে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ব্যয় আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি। একে একটি সহনীয় ও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে নামিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 




















