বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে এবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে চীন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তিস্তা নদীর জলপ্রবাহের উপর নির্ভরশীল দেশের উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় দেশ তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পায়। এছাড়াও, স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান যে, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এই সহযোগিতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে উভয় পক্ষই আগ্রহী।
মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টন নিয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে, চীনের পক্ষ থেকে তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব একটি ইতিবাচক দিক। তবে, তিনি আরও জানান যে, এই বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের এই আগ্রহ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























