দেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর হেভি মেটালের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে খাদ্যে এই অতিরিক্ত মাত্রার হেভি মেটালের অস্তিত্ব ধরা পড়ছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ অপরিহার্য। মঙ্গলবার খাদ্য ভবনে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু তারা সমালোচনা নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে চান। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জোর দেন যে, কৃষকদের উৎপাদন এবং খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য নিয়ে যেন কোনো দুশ্চিন্তা না থাকে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে খাদ্যের সরবরাহ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে এর মানও নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একে উন্নত করতে পারলে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সহজ হবে এবং তাদের প্রদত্ত সার্টিফিকেট বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শুধু চাল নয়, অন্যান্য খাদ্যপণ্য রপ্তানির লক্ষ্য পূরণেও এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে।
মন্ত্রী গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে নতুনত্ব নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এসেছেন এবং এই সময়েটাকে অর্থবহ করতে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমস্যা থাকবেই, তবে তার সমাধানও খুঁজে বের করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের শুধু সমস্যার কথা না বলে, সম্ভাব্য সমাধানের প্রস্তাবনা নিয়ে আসার আহ্বান জানান। একটি শক্তিশালী টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি সকলের সহযোগিতায় সমস্যার সমাধান করতে চান। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, সবাই যেন মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যায়। টেকসই সমাধানের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
মতবিনিময় সভায় খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কৃষি প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তাসহ ভেজালমুক্ত খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই কাজে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার খাদ্য অধিদপ্তরের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ভুল তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দেন। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম কামরুজ্জামান সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
—
রিপোর্টারের নাম 




















