ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আলোচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মানবাধিকার বিশ্লেষক অ্যান মার্লবোরো কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে অ্যান মার্লবোরো বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর কার্যক্রমের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ তারা কমিশনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচনকালে সংঘটিত সহিংসতা, মানবাধিকারের অপব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর সম্ভাব্য হুমকিগুলো গুরুত্ব সহকারে স্থান পায়। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার সুরক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ সময় বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় কমিশনের ক্ষমতা ও কর্মপরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে কমিশনের কমিশনার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও সুসংহত হবে।

চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেন যে, কমিশন তার আইনি দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

আলোচনার শেষে, উভয় পক্ষই বাংলাদেশে মানবাধিকারের অগ্রগতিতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। ভবিষ্যতে মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব জোরদার করার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক অগ্রযাত্রা অর্জনের ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আলোচনা

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মানবাধিকার বিশ্লেষক অ্যান মার্লবোরো কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে অ্যান মার্লবোরো বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ-এর কার্যক্রমের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ তারা কমিশনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্বাচনকালে সংঘটিত সহিংসতা, মানবাধিকারের অপব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর সম্ভাব্য হুমকিগুলো গুরুত্ব সহকারে স্থান পায়। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার সুরক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ সময় বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় কমিশনের ক্ষমতা ও কর্মপরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে কমিশনের কমিশনার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও সুসংহত হবে।

চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেন যে, কমিশন তার আইনি দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে দেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

আলোচনার শেষে, উভয় পক্ষই বাংলাদেশে মানবাধিকারের অগ্রগতিতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। ভবিষ্যতে মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব জোরদার করার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক অগ্রযাত্রা অর্জনের ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।