গাজায় চলমান নির্মম গণহত্যার পেছনে ধর্ম বিশ্বাস, বিশ্ব জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূরাজনৈতিক কৌশলগত হেজিমনি প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জায়নবাদী আগ্রাসনে শুধু ইহুদিবাদী ইসরাইল নয়, আমেরিকা ও ইউরোপও সরাসরি জড়িত।
মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিশ্বব্যাপী জায়নবাদী আগ্রাসন ও গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের কারণেই বিশ্বব্যাপী জায়নবাদী আগ্রাসন ও গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি গাজার ভূখণ্ডকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেন।
বাংলাদেশের মতো একটি ছোট রাষ্ট্রের বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয় জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা সীমিত হলেও বাংলাদেশ বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত গঠন, গবেষণা ও বিশ্লেষণ, লেখালেখি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশনের মোহায়মিনুল হাসান রিয়াদ এবং ড. আবু লায়েক। এ সময় জকসুর এজিএস মাসুদ রানাসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার জয়া।
রিপোর্টারের নাম 



















