দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মাদক সংক্রান্ত সহিংসতা। এবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে একদল বন্দুকধারী হামলা চালিয়ে অন্তত সাতজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। সোমবার ভোরে মানাবি প্রদেশের একটি খামারে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলাকারীরা সামরিক কায়দায় পোশাক পরে অতর্কিত ওই খামারে হানা দেয়। তারা সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের প্রথমে একটি আঙিনায় জড়ো করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে রাইফেল ও পিস্তল দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।
ইকুয়েডরে গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। বিশেষ করে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার শক্তিশালী মাদক চক্রগুলো ইকুয়েডরকে কোকেন পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মাদক সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিতেই মূলত এই প্রাণঘাতী লড়াই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নবোয়া দেশজুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। মানাবিসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে গত জানুয়ারি থেকে জরুরি অবস্থা জারি থাকলেও সহিংসতার লাগাম টানা যাচ্ছে না। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৯ হাজার ২১৬ জন সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এক সময় দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত ইকুয়েডর বর্তমানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। কলম্বিয়া ও পেরুর কোকেন পাচারের প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশটিতে অপরাধী চক্রগুলোর নৃশংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজকের এই হামলা সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























