গ্রীষ্মের শুরুতেই জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ঘাটতির কারণে সারা দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে গ্রামীণ জনপদ। শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কয়েকগুণ বেশি; কোথাও কোথাও ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, আদানির একটি ইউনিট ও এস এস পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি চলছে। এই সংকটের ফলে কৃষি সেচ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে যশোরের বেনাপোল ও নাটোরের বোরো চাষিরা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারেও বিপর্যয় নেমে এসেছে; গরমে খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে এবং পুকুরে সেচ দিতে না পারায় মাছের বৃদ্ধি থমকে গেছে। গ্রামীণ এই অর্থনীতিতে ধস নামার উপক্রম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব কেবল কৃষি নয়, শিল্প ও সেবা সড়কেও অন্ধকার নামিয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে, আর বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ডিজেল ও গ্যাস সংকটের মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। হিমাগারগুলোতে আলু ও বীজ আলু সংরক্ষণে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কুমিল্লার হিমাগার মালিকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং মাসে অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা; তীব্র গরম ও রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনার রুটিন ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানিয়েছেন, সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে আদানির বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে পুরোপুরি লোডশেডিং মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখনই নেই। টেকনাফ থেকে শুরু করে শেরপুর পর্যন্ত মফস্বল এলাকার গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে শহরের সাথে গ্রামের যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালানো হলেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সেই প্রচেষ্টাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















