ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আঘাতে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে, ৪০ শতাংশ চাকরি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের বাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনই লক্ষ লক্ষ তরুণ কর্মপ্রত্যাশীর মনে তৈরি করছে গভীর উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এআইয়ের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি প্রভাবিত হতে পারে, যা শ্রমবাজারে এক বিরাট ধাক্কা দেবে।

জর্জিয়েভা উল্লেখ করেছেন যে, উন্নত দেশগুলোতে এআইয়ের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এর প্রভাব প্রায় ২৬ শতাংশ হতে পারে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতের কর্মবাজারে প্রবেশ করে, তাই এই পরিবর্তন তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ এই কাজগুলোর অনেকগুলোই সহজেই স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। এর ফলে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জর্জিয়েভা মনে করেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে বিশ্ব এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে।

তবে, এই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এআইয়ের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। জর্জিয়েভা বলেছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এআই ভারতের অর্থনীতিতে বছরে অতিরিক্ত ০.৭ শতাংশ জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) যোগ করতে পারে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতের জন্য তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞানই নয়, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং, আইটি সেক্টর এবং তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এআইয়ের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ বিশ্ববাজারে কোডিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ করছেন। এআইয়ের উত্থানের ফলে এই সাধারণ কাজগুলোর চাহিদা কমে যেতে পারে, যা দ্রুত ‘আপস্কিলিং’ বা দক্ষতা বৃদ্ধি না করলে বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

এআইয়ের এই ‘সুনামি’ থেকে বাঁচতে হলে শিক্ষা এবং কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা জরুরি। এআই কেবল ঝুঁকিই নয়, এটি একটি বড় আশীর্বাদও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের কৃষি খাতে ‘স্মার্ট কৃষি’ বা ‘প্রিসিশন ফার্মিং’য়ের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ফসলের রোগ নির্ণয় ও ফলন বৃদ্ধিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা দেশের কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আঘাতে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে, ৪০ শতাংশ চাকরি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের বাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনই লক্ষ লক্ষ তরুণ কর্মপ্রত্যাশীর মনে তৈরি করছে গভীর উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এআইয়ের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি প্রভাবিত হতে পারে, যা শ্রমবাজারে এক বিরাট ধাক্কা দেবে।

জর্জিয়েভা উল্লেখ করেছেন যে, উন্নত দেশগুলোতে এআইয়ের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে এর প্রভাব প্রায় ২৬ শতাংশ হতে পারে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতের কর্মবাজারে প্রবেশ করে, তাই এই পরিবর্তন তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ এই কাজগুলোর অনেকগুলোই সহজেই স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। এর ফলে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জর্জিয়েভা মনে করেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে বিশ্ব এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে।

তবে, এই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এআইয়ের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। জর্জিয়েভা বলেছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এআই ভারতের অর্থনীতিতে বছরে অতিরিক্ত ০.৭ শতাংশ জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) যোগ করতে পারে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতের জন্য তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞানই নয়, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং, আইটি সেক্টর এবং তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এআইয়ের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ বিশ্ববাজারে কোডিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ করছেন। এআইয়ের উত্থানের ফলে এই সাধারণ কাজগুলোর চাহিদা কমে যেতে পারে, যা দ্রুত ‘আপস্কিলিং’ বা দক্ষতা বৃদ্ধি না করলে বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

এআইয়ের এই ‘সুনামি’ থেকে বাঁচতে হলে শিক্ষা এবং কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা জরুরি। এআই কেবল ঝুঁকিই নয়, এটি একটি বড় আশীর্বাদও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের কৃষি খাতে ‘স্মার্ট কৃষি’ বা ‘প্রিসিশন ফার্মিং’য়ের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ফসলের রোগ নির্ণয় ও ফলন বৃদ্ধিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা দেশের কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।