ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের রাজনীতি: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙালি জাতিকে হীনম্মন্যতায় ভোগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী এ অঞ্চলের মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল থেকে শুরু করে আধুনিক ভারতের কতিপয় রাজনীতিকও বিভিন্ন সময় আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মূলত নিজেদের হীনম্মন্যতা ঢাকতেই শাসকশ্রেণি এই ধরনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকে।

ঐতিহাসিকভাবে পূর্ববঙ্গ ছিল অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মোগল আমলে বিশ্বের জিডিপির একটি বড় অংশ আসত এই অঞ্চল থেকে। কিন্তু ব্রিটিশরা কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ এবং শোষণের মাধ্যমে এই সমৃদ্ধ জনপদকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দেয়। কেবল অর্থনৈতিক নয়, তারা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারেরও চেষ্টা করেছে। সুলতানি আমলে বিকশিত বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ‘নিম্নবর্গের’ তকমা দিয়ে কৃত্রিম এক ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই সাংস্কৃতিক রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করা, যাতে তারা নিজেদের শেকড় ভুলে গিয়ে শাসকদের সংস্কৃতিকে উচ্চবর্গের মনে করে। বাঙালির জাতীয়তাবাদের গঠন এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশের পেছনে এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের এক গভীর প্রভাব রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো অনুধাবন করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কাটছে না চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা

বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের রাজনীতি: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙালি জাতিকে হীনম্মন্যতায় ভোগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী এ অঞ্চলের মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল থেকে শুরু করে আধুনিক ভারতের কতিপয় রাজনীতিকও বিভিন্ন সময় আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। মূলত নিজেদের হীনম্মন্যতা ঢাকতেই শাসকশ্রেণি এই ধরনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকে।

ঐতিহাসিকভাবে পূর্ববঙ্গ ছিল অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মোগল আমলে বিশ্বের জিডিপির একটি বড় অংশ আসত এই অঞ্চল থেকে। কিন্তু ব্রিটিশরা কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ এবং শোষণের মাধ্যমে এই সমৃদ্ধ জনপদকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দেয়। কেবল অর্থনৈতিক নয়, তারা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারেরও চেষ্টা করেছে। সুলতানি আমলে বিকশিত বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ‘নিম্নবর্গের’ তকমা দিয়ে কৃত্রিম এক ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই সাংস্কৃতিক রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করা, যাতে তারা নিজেদের শেকড় ভুলে গিয়ে শাসকদের সংস্কৃতিকে উচ্চবর্গের মনে করে। বাঙালির জাতীয়তাবাদের গঠন এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশের পেছনে এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের এক গভীর প্রভাব রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো অনুধাবন করা জরুরি।